নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দ্রুত ব্লক কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব। ব্লক সভাপতি এবং বিধায়কদের আলোচনা করে কমিটি গঠন করবে বলে ঠিক হয়। তালিকায় ব্লক সভাপতি এবং বিধায়কদের যৌথভাবে সই করার কথা। আর সেখানেই বিপত্তি ঘটেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশকিছু ব্লকে সভাপতিদের সঙ্গে বিধায়কদের বনিবনা নেই। সেই কারণে ওই ব্লকের নেতৃত্ব চূড়ান্ত তালিকা জমা করতে পারছে না। ৪ নভেম্বর ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কমিটির তালিকা তৈরি না করা গেলে জেলা নেতৃত্ব রাজ্যকে জানাবে। ৩০-৩৫ জনের ব্লক কমিটি তৈরির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম-২ ব্লকের সভাপতির সঙ্গে বিধায়কের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। দু’পক্ষের বিরোধ বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যেও এসেছে। এই ব্লকের কমিটি এখনও গঠন হয়নি। মেমারি-১ ব্লকের সভাপতির সঙ্গে বিধায়কের দূরত্ব রয়েছে। এই ব্লকও এখনও চূড়ান্ত তালিকা জমা করতে পারেনি। খণ্ডঘোষেও ব্লক সভাপতির সঙ্গে বিধায়কের টানাপোড়েন রয়েছে। এই ব্লকও কমিটির তালিকা জমা করেনি। মন্তেশ্বর ব্লকে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। এই ব্লকেও কমিটি তৈরি হয়নি। ব্লক সভাপতিদের দাবি, তালিকা তৈরি হয়ে রয়েছে। বিধায়করা সই না করায় তা জমা দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বিধায়কদের দাবি, তাঁদের না জানিয়েই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ব্লক সভাপতিরা নিজেদের লোকদের তালিকায় ঠাঁই দিয়েছেন। একতরফাভাবে কমিটি তৈরির জন্যই তাঁরা সই করেননি। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার জেলা কমিটির বৈঠকে নেতাদের মধ্যে বাগযুদ্ধ বেধে যায়। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা দুই প্রভাবশালীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। নেতৃত্ব বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। সহযোগী সংস্থার কর্মীরা ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট গিয়েছে।
তৃণমূলের এক নেতা বলেন, গোষ্ঠীকোন্দল কোনওভাবে মানা হবে না। সেটা রাজ্য নেতৃত্ব বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছে। যাঁরা দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্লক কমিটি সভাপতি এবং বিধায়কদের সহমতের ভিত্তিতেই তৈরি করতে হবে। অধিকাংশ ব্লকের কমিটি তালিকা জেলা নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে। শুধু ওই কয়েকটি ব্লক তালিকা জমা দেয়নি। তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামতে হবে।
রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি ব্লকের নেতৃত্বকে গতবারের থেকে বেশি ভোটের লিড দিতে হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই জেলার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই শাসক দল জয়ী হয়েছে। এবারও জেলায় সব আসনেই তৃণমূল দাপট ধরে রাখবে বলে নেতৃত্ব আশাবাদী। তবে, তার আগে কোন্দল মিটিয়ে প্রতিটি নেতাকেই সংগঠনের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।