


মুতাহার কামাল, চোপড়া: ইঙ্গিত রবিবারই পাওয়া গিয়েছিল। তবে, হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে ব্লক নেতৃত্ব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেবে, কল্পনার বাইরে।
তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রচারে নেমে পড়েছে। কিন্তু উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছিল কংগ্রেস শিবিরে। এআইসিসি-র পক্ষ থেকে প্রার্থী তালিকা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সোমবার নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্র। দিল্লির সবুজ সঙ্কেতের তোয়াক্কা না করেই ব্লক কমিটির উদ্যোগে ঘোষণা করে দেওয়া হল প্রার্থীর নাম। যিনি আবার কয়েকদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে হাত ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি নীচুতলার কর্মীদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জেলা ও প্রদেশ নেতৃত্ব? নাকি প্রার্থী বাছাই নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ বুঝেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত?
সোমবার বিকেলে সদর ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু কর্মী-সমর্থক। সেখানেই ঘটা করে ঘোষণা করা হয় এই কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হচ্ছেন জাকির আবেদিন।
দলের ব্লক সভাপতি মহম্মদ মসিরুদ্দিন বলেন, ব্লক কমিটির বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি অনেক আগে প্রচার শুরু করেছে। কর্মীরা প্রার্থীর নাম না জানতে পেরে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের প্রবল চাপের মুখেই জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছি।
চোপড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ মসিরুদ্দিন বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই, এই কেন্দ্র থেকে একজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। যেহেতু প্রার্থী ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছে, তাই ব্লক কমিটির বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । দিল্লির অনুমোদন পাওয়ার আগেই এই ঘোষণা শেষপর্যন্ত ব্যুমেরাং হবে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। যদি এআইসিসি শেষ মুহূর্তে অন্য কারও নাম ঘোষণা করে, তবে চোপড়া কংগ্রেসের মুখ পুড়বে বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, হাইকম্যান্ড এই ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়, নাকি অবাধ্যতার দায়ে কড়া ব্যবস্থা নেয়।
চোপড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দশক পর এই কেন্দ্রে এককভাবে প্রার্থী দিল কংগ্রেস। শেষবার ২০০৬ সালে চোপড়ায় কংগ্রেস নিজের প্রতীকে লড়াই করেছিল। পরবর্তী সময়ে জোট রাজনীতির সমীকরণে এই আসনটি কখনও বামফ্রন্ট, তৃণমূলকে ছেড়ে দিতে হয়। ইভিএমে ফের ‘হাত’ চিহ্ন দেখতে পাবেন ভেবে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় নীচুতলার কর্মীরা।
জাকির পোড়খাওয়া রাজনীতিক এবং প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সহ-সভাপতি জাকির দিনকয়েক আগেই ঘাসফুল শিবির ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এক সময় যিনি বর্তমান বিধায়ক হামিদুল রহমানের অন্যতম সেনাপতি হিসেবে ভোট করাতেন, এবার তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ময়দানে নামছেন। জাকির বলেন, ব্লক কমিটির সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। দীর্ঘ ২০ বছর পর কংগ্রেসিরা নিজের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরাই জিতব। জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তও মেনে নিয়েছেন, এভাবে ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।