Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধ বালি খাদান, পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে বালির জোগান নিয়ে চিন্তায় ব্লক প্রশাসন

‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের কাজে বালির জোগান নিয়ে চিন্তিত বাঁকুড়ার একাধিক ব্লক প্রশাসন।

বন্ধ বালি খাদান, পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে বালির জোগান নিয়ে চিন্তায় ব্লক প্রশাসন
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের কাজে বালির জোগান নিয়ে চিন্তিত বাঁকুড়ার একাধিক ব্লক প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জেলায় ওই প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। টাকা চলে আসায় ব্লক প্রশাসনের তরফে কিছু জায়গায় কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। তবে, বর্ষার মরশুমে জেলার সব বালি খাদান প্রশাসন বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা বিদায় নিলেও বালিঘাট খোলার ব্যাপারে এখনও প্রশাসনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপকহারে উন্নয়ন কাজ শুরু হলে জেলাজুড়ে বেআইনি বালি কারবারিরা মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে বলে বিডিও ও পুলিশের একাংশ আশঙ্কা করছেন।   

Advertisement

বাঁকুড়ায় আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক বলেন, আমরা বেশ কয়েক দফায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজ্য থেকে পেয়েছি। বহু কাজের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় কাজ শুরুও হয়েছে। বালি খাদান চালুর বিষয়টি জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর বলতে পারবে। বাঁকুড়া জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর সেচদপ্তর নদ-নদীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। তারপর তারা আমাদের খাদান চালুর ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয়। এখনও সেচদপ্তরের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়নি। বর্তমানে কালীপুজোর ছুটি চলছে। আগামী সপ্তাহে অফিস খোলার পর এব্যাপারে আলোচনা হবে। নভেম্বর মাসের আগে খাদান চালুর সম্ভাবনা কম। তবে, উন্নয়ন কাজে বালির অভাব হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমরা কয়েকজন খাদান মালিককে বালি মজুতের অনুমতি দিয়েছিলাম। বর্ষা শুরুর আগে তাঁরা নিজ নিজ খাদন থেকে বালি উত্তোলন করে ডাঙায় মজুত করেছিলেন। সেই বালি গত চারমাস ধরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় মোট যা বুথের সংখ্যা তাতে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। ওই টাকায় কয়েক হাজার প্রকল্প রূপায়িত হবে। কোনও বুথে বড় প্রকল্প ধরা হলে একটিতেই সব টাকা খরচ হয়ে যাবে। ছোট ছোট প্রকল্প থাকলে একাধিক পাড়ায় তা রূপায়িত হবে। প্রকল্প চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিদাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের টাকায় পাড়ার মধ্যে রাস্তা, নিকাশি নালা, মুক্তমঞ্চ, শ্মশানযাত্রীদের জন্য শেড সহ নানা প্রকল্প রয়েছে। ওইসব প্রকল্পে কংক্রিটের নির্মাণ কাজ হবে। তারফলে সেখানে প্রচুর বালির প্রয়োজন। 
বাঁকুড়ায় বেআইনি বালি খাদানের রমরমা লক্ষ্য করা যায়। বেআইনি বালি উত্তোলনের জন্য সরকারকে মাফিয়ারা রাজস্ব দেয় না। ফলে তারা কম দামে বালি বিক্রি করতে পারে। ঠিকাদাররাও লাভের জন্য ওই বালি কিনবে। ফলে চোরাই বালিতে জঙ্গলমহলে সরকারি প্রকল্প রূপায়ণ হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বৈধ খাদান চালুর দাবি উঠেছে। তা চালু হলে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনই পরিবেশের ক্ষতিও আটকানো যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ