মনসুর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: বাবার নাম লেখায় ইনিউমারেশন ফর্ম জমা নিতে চাইছেন না বিএলও! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সিতাই বিধানসভার বাসিন্দা রমজান মিয়াঁর মেয়ে ওমেনা বিবির। নাটাবাড়ি বিধানসভার কাদের আলি শেখের সঙ্গে বিয়ে হওয়াতে ওই বিধানসভায় ভোটার হয়েছেন ওমেনা। সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নাটাবাড়ি বিধানসভার ২৩১ নম্বর অংশের ২৩ ক্রমিক সংখ্যায় ওমেনা বিবির নাম। ইনিউমারেশন ফর্মে তাঁর বাবার নামের তথ্য দেওয়াতে ওই ফর্ম জমা নিচ্ছেন না বিএলও, এমনই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও এনিয়ে কোনও কথা বলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট বিএলও।ওমেনা বিষয়টি তুফানগঞ্জ-১ বিডিও অফিসেও জানিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও।
ওমেনা বিবির বাবা রমজান মিয়াঁ ২০০২ সালে তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার কুমারগ্রাম বিধানসভার ভোটার ছিলেন। পরবর্তীতে রমজান মিয়াঁ সিতাই বিধানসভার অন্তর্গত দিনহাটা-১ ব্লকের কোণামুক্তা গ্রামে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেই সূত্রে বর্তমানে রমজান মিয়াঁ সিতাই বিধানসভার ভোটার। রমজানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বাকি তিন ছেলে-মেয়েরএসআইআর ফর্ম পূরণে কোনও সমস্যা হয়নি। অথচ ওমেনা বিবির ক্ষেত্রেই সমস্যা শুরু হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কারও নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় না থাকলে ইনিউমারেশন ফর্মে তিনি তাঁর আত্মীয়ের বিবরণ লিখবেন। সেই আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকা আবশ্যক। ওমেনার বাবার নাম ২০০২ এর তালিকায় আছে। সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর বাবার নাম ও অন্য তথ্যই নিজের ফর্মে দেবেন। কিন্তু অজানা কারণে বিএলও তা নিয়ে আপত্তি তুলছেন বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর। তাঁকে বলা হয়েছে, বাবার বিবরণ না লিখেই ফর্ম জমা করতে।
ওমেনা বলেন, বিবাহ সূত্রে নাটাবাড়ি বিধানসভার ভোটার আমি। আমার বাবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। এই তথ্য ফর্মে দিই। বিএলও তা জমা নিতে অস্বীকার করেছেন। বাধ্য হয়ে বাপের বাড়িতে এসে হাজির হই। ভারতবর্ষে আমার জন্ম। আমার বাপ-ঠাকুরদা সকলেই এ দেশের। তবু কেন হয়রানির শিকার হব আমি?
সংশ্লিষ্ট বিএলও কিশোরকুমার দেব বলেন, ওই মহিলা ভোটারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, সেই ভাবেই কাজ করেছি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করব না।
ওমেনা বিবির ভাই হাসানুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, আমরা চার ভাই বোন। সকলেই বাবার ২০০২ এর ভোটার তালিকার বিবরণ এসআইআর ফর্মে দিয়েছি। শুধুমাত্র ওমেনাকেই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
শুক্রবারই ওমেনা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান তুফানগঞ্জ-১ বিডিও অফিসে। বিডিও সঞ্জয় ঘিসিং বলেন, কোথায় সমস্যা তা খোঁজ নিয়ে দেখছি।