নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: ফের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ এক বিএলওর বিরুদ্ধে। শুধু ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করাই নয়, ফিলআপ করে দেওয়ার বিনিময়ে ২০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠল। ঘটনাটি রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া আব্দুলঘাটা এলাকার। যা নিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরব হয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জয়শ্রী মণ্ডলের স্বামী অমল মণ্ডলও। তিনি বলেন, দলের বুথ সভাপতি বিএলওর কার্যকলাপের বিষয়টি জানিয়েছেন। সকলকে বলেছিলাম, সময় আছে, ধীরে সুস্থে ফর্ম ফিলআপ করুন। স্থানীয়দের একাংশ বলেছেন, বিএলও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ফর্ম ফিলআপ করাচ্ছেন। তবে, টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না। পরে তা জানতে পেরে বারণ করেছি।
রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রশাসনের নজরে এসেছে। খতিয়ে দেখছি। শীঘ্রই ওই বিএলওকে ডেকে পাঠানো হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯২ নম্বর বুথের বিএলও দিপালী সরকার তাঁর সদ্য গ্রাজুয়েট ছেলে রূপান্ত সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুলঘাটা গ্রামের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। একদিকে ফর্ম বিলি করছেন, অন্যদিকে নিজের ছেলেকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে ফর্ম ফিলআপ করাচ্ছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন ফর্ম পিছু ২০ টাকা। বুধবার এ নিয়ে গ্রামবাসীদের কেউ কেউ সরব হন। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাস বলেন, বিএলও ছেলেকে নিয়ে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপের জন্য ২০ টাকা করে নিচ্ছেন। আমার বাড়িতে এলেও করাইনি।
আরেক বাসিন্দা শঙ্করী মণ্ডলের দাবি, বিএলওর সঙ্গে দু’টি ছেলে এসেছিল। ২০ টাকার বিনিময়ে আমার ফর্ম ফিলআপ করিয়েছি। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিএলও ও তাঁর ছেলে। দীপালি বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য বলেছিলেন ফর্ম ফিলআপ করে দিলে ২০ টাকা করে নিতে। ছেলে কলেজ পাশ করে বাড়িতে বসে আছে। তাই বলেছিলাম তাহলে ওই ফর্ম ফিলআপ করুক। বিএলওর ছেলে রূপান্তর দাবি, এলাকায় অনেকেই তেমন পড়াশোনা জানেন না। তাই তাঁদের ফর্ম ফিলআপ করে দিচ্ছি। বিনিময়ে গ্রামবাসীরা ১০, ২০ টাকা করে দিচ্ছেন। যদিও পঞ্চায়েত সদস্য টাকা নিতে বলার বিষয়টি মানতে চাননি।