নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের জলপাইগুড়িতে কমিউনিটি হলে ও পাড়ার মোড়ে বেঞ্চ পেতে বসে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠল। জলপাইগুড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর কলোনি ভাটাখানা এলাকায় বুথ লেভেল অফিসার প্রকাশচন্দ্র মজুমদার বাড়ি বাড়ি না গিয়ে এক জায়গায় জটলা করে এসআইআরের ফর্ম বিলি করছেন বলে অভিযোগ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনগর কলোনি এলাকায় একটি কমিউনিটি হলে বসে ফর্ম বিলি করেন তিনি। এনিয়ে বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান। তারপরও শনিবার তৃণমূলের বিএলএকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিএলওকে পাড়ায় বেঞ্চ পেতে বসে ফর্ম বিলি করতে দেখা যায়। যদিও এনিয়ে বিএলওর সাফাই, বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাড়িতে লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। সেকারণে আশপাশের কয়েকটা বাড়ির সদস্যদের খবর দিয়ে এক জায়গায় বসে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ করা হচ্ছে। এতে কাজে অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে।
কমিউনিটি হলে বসে তিনি যে ফর্ম বিলি করেছেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। ওই বিএলওর দাবি, এটা ঠিক যে, নির্বাচন কমিশনের গাইড লাইনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ফিল্ডে কাজ করতে গিয়ে সেই গাইড লাইন অক্ষরে অক্ষরে মানা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে ফর্ম বিলি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, আমরা তো জানি, বিএলও বাড়ি বাড়ি এসে ফর্ম বিলি করবেন। কিন্তু আমাদের এখানে কখনও বিএলও কমিউনিটি হলে বসে ফর্ম দিচ্ছেন, কখনও আবার তিনি পাড়ার মোড়ে বেঞ্চ পেতে বসে ফর্ম বিলির কাজ সারছেন।
তৃণমূলের বিএলএ রাজদীপ ঘোষাল অবশ্য ওই বিএলওর পক্ষেই কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, ঠিকভাবেই কাজ চলছে। কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে জলপাইগুড়িতে তিস্তার বাঁধের উপর চেয়ার টেবিল পেতে বসে এক বিএলওকে ফর্ম বিলি করতে দেখা যায়। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ফর্ম ভর্তি ব্যাগ নিয়ে একবার বাঁধের নীচে যাওয়া, আবার উপরে উঠতে অসুবিধা হচ্ছে। সেকারণে তিনি বাঁধের উপর চেয়ার-টেবিল বসে ফর্ম দিচ্ছেন। যদিও ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, বাঁধের উপর বসে ওই বিএলও ফর্ম বিলি করছিলেন না। বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসে বাঁধের উপর বসে ফর্ম গোছাচ্ছিলেন তিনি। শনিবার জলপাইগুড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএলওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা অবশ্য মন্তব্য করতে চাননি। নিজস্ব চিত্র।