সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শুনানিতে হাজির হতে হবে না। বিনিময়ে চার হাজার টাকা দিলেই হবে। বিএলও’র এমন দাবি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায় নকশালবাড়ি বিডিও অফিসে। মঙ্গলবার ব্লক অফিসে শুনানিতে এসে বিএলও’র বিরুদ্ধে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হন তোতারাম জোতের বাসিন্দা মহম্মদ সাদ্দাম হুসেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে সাদ্দাম এদিন পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে করেননি। দার্জিলিংয়ের জেলশাসক মণীষ মিশ্রা জানিয়েছেন, ইআরও’র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে।
কাজের খাতিরে ন’বছর ধরে সাদ্দাম বেঙ্গালুরু থাকেন। তবে তিনি নকশালবাড়ির ভোটার। শুনানির ডাক পড়ায় ন’হাজার টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কেটে সোমবার তিনি নকশালবাড়ি আসেন। এদিন বিডিও অফিসে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে বিএলও’র বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে বিএলও ফোন করে শুনানির কথা জানান। বিএলও তথা ভৈসাহাটি নেপালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে না আসার পরামর্শ দিয়ে চার হাজার টাকার দাবি করেন। তিনিই শুনানির বিষয়টি সব সামলে নেবেন বলে আশ্বাস দেন। নাগরিক প্রমাণের জন্য টাকা দিতে হবে! তা কোনওভাবেই মেনে পারেননি সাদ্দাম। তিনি শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে বিডিও’র সঙ্গে তাঁর ফোনে কথপোকথনের রেকর্ডিং তুলে ধরেন। ‘বর্তমান’ অবশ্য সেই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি।
সাদ্দাম হুসেন বলেন, আমি বেঙ্গলুরুতে থাকি। সৎ পথে চলা আমার কাজ। আমাকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের জন্য ঘুষ দিতে হবে! এটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এজন্য ১৮ হাজার টাকা দিয়ে বিমানে যাওয়া-আসার টিকিট কাটি। আমি এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানাব।
যদিও ভোটারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন এলাকার বিএলও কাঞ্চন লিম্বু। বলেন, ওই ভোটারকে চিনি না। তাঁর নামে নোটিস এসেছিল। সেই নোটিস তাঁর বাড়ির লোকের হাতে দিয়ে এসেছি। টাকা চাওয়ার অভিযোগ কেন করছেন, বুঝতে পারছি না। ভিত্তিহীন কথা ওসব। অডিও প্রসঙ্গে বিএলও বলেন, উনি শুনানিতে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তখন আমি শুধু বলেছিলাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাঠালেও হবে। ওই ভোটার ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। ।
এনিয়ে নকশালবাড়ির বিডিও প্রণব চট্টরাজ বলেন, সংশ্লিষ্ট এইআরও’কে এবিষয়ে ওই ভোটার লিখিত অভিযোগ করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। বিএলও’র কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হবে।