Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরের চাপে ফের আত্মহত্যা বিএলওর!

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রানিতলায়। মৃত হামিমুল ইসলাম (৪৭) রানিতলার আলাইপুরের বাসিন্দা ছিলেন।

এসআইআরের চাপে ফের আত্মহত্যা বিএলওর!
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রানিতলায়। মৃত হামিমুল ইসলাম (৪৭) রানিতলার আলাইপুরের বাসিন্দা ছিলেন। খড়িবোনার পূর্ব আলাইপুর বুথের বিএলওর দায়িত্ব সামলাতেন। যে চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন, শনিবার রাতে সেখান থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

Advertisement

এদিন সন্ধ্যায় মৃত শিক্ষকের পরিবার রানিতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসআইআরের কাজের জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। এছাড়া, গ্রামেরই এক ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছিল।
মৃতের পরিবারের দাবি, হামিমুল সাহেব এসআইআরের কাজ নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোটা অঙ্কের ঋণের টাকা ফেরানোর জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিল। এসব কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁরা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার দিন দুপুর থেকে হামিমুল সাহেবের মোবাইল বন্ধ ছিল। মোবাইলটি পাওয়াও যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে। ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, স্কুলের ঘর থেকে প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে আমাদের প্রাথমিক অনুমান। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসার আগে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে হামিমুল সাহেব বাড়ি থেকে বের হন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পরও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করেও তাঁর হদিশ পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিয়ে ছোট পদ্মার ওপারে পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। স্কুলে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটি ঘরে হামিমুল সাহেবের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রানিতলা থানার পুলিশ পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি বিএলওর কাজের জন্য ওই প্রধান শিক্ষক প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। তার উপর এক ব্যক্তি টাকার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিল। সেকারণে এই ঘটনা ঘটেছে।মৃতের স্ত্রী শীলা বিবি বলেন, স্বামী অসুস্থ ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁর উপর বিএলও’র দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মৃতের দাদা ফরমানুল ইসলাম বলেন, এটা আত্মহত্যা না খুন-সেটা তদন্ত হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ