নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বারাকপুর: এসআইআরের কাজের চাপে এবার গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক বিএলও তথা প্রধান শিক্ষক। বরাত জোরে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ফের এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে ওই ঘটনা। শনিবার দুপুরে শ্রীরামপুরের গঙ্গায় লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দেন ওই বিএলও। লঞ্চের কর্মী ও জলসাথীদের প্রচেষ্টায় প্রবীণ ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর লঞ্চঘাট থেকে মহম্মদ কায়মুদ্দিন নামে ওই বিএলও তথা শিক্ষককে উদ্ধার করে স্থানীয় সুপার স্পেশালিটিতে ভরতি করায়। মহম্মদ কায়মুদ্দিন টিটাগড়ের বাসিন্দা ও কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁকে বিএন বসু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিন তিনি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন। সেই ব্যাগের ভিতরে গুচ্ছগুচ্ছ এসআইআর নথি মিলেছে। জানা গিয়েছে, তিনি বারাকপুর থেকে লঞ্চে করে শ্রীরামপুরে সকালবেলা এসেছিলেন। তারপরে দুপুরে শ্রীরামপুর থেকে লঞ্চে চাপেন এবং মাঝগঙ্গায় গিয়ে ঝাঁপ দেন। পরে তিনিই জানান, এসআইআরের কাজের চাপ আর সইতে পারছিলেন না। তাই মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে মরতে চেয়েছিলেন। ওই শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি টিটাগড় পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন। ডিজিটাইজেশনের কাজ তাঁর পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছিল না। সমস্যার কথা জানালেও কমিশন পাত্তা দেয়নি।
শ্রীরামপুর ফেরিঘাটের এক কর্মী বলেন, হঠাৎ ওই ব্যক্তি ঝাঁপ দিয়েছিলেন। আমরা জলে নেমে তাঁকে উদ্ধার করি। পরে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে গিয়েছে। গোটা ঘটনায় কমিশনের বিরুদ্ধে ফের মুখ খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন দুপুরেই শ্রীরামপুর শহর তৃণমূলের সভাপতি সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, এসআইআর নয়, রাজ্যে মানুষ মারা কল চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, এদিন হাসপাতালে ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এসআইআর এখন বিএলও থেকে নাগরিক সকলের জন্য দুঃস্বপ্ন। যদিও বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল বলেন, একটি প্রশাসনিক পদ্ধতিকে যেভাবে তৃণমূল অপপ্রচারের বিষয় করছে তাতে দেশের আইনব্যবস্থা বিপন্ন হচ্ছে।