Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রকৃত ভোটার চিনতে ব্যর্থ বিএলও অ্যাপ, শুধু পদবি দিলেও আপলোড হচ্ছে ইনিউমারেশন ফর্ম, এসআইআরে নয়া বিতর্ক

২০০২ সালে ভোটারের নাম ছিল অনিমা সরকার। ২০২৫ সালে সেই ভোটারই হয়ে গেলেন বাবুলাল দুবে! আবার ইনিউমারেশন ফর্মে ভোটারের বাবার নাম দিলীপ মুখার্জি। আর তাঁর ঠাকুর্দা, নিবারণ চ্যাটার্জি।

প্রকৃত ভোটার চিনতে ব্যর্থ বিএলও অ্যাপ, শুধু পদবি দিলেও আপলোড হচ্ছে ইনিউমারেশন ফর্ম, এসআইআরে নয়া বিতর্ক
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ২০০২ সালে ভোটারের নাম ছিল অনিমা সরকার। ২০২৫ সালে সেই ভোটারই হয়ে গেলেন বাবুলাল দুবে! আবার ইনিউমারেশন ফর্মে ভোটারের বাবার নাম দিলীপ মুখার্জি। আর তাঁর ঠাকুর্দা, নিবারণ চ্যাটার্জি। 

Advertisement

এও কি সম্ভব? কিন্তু রাজ্যজুড়ে এমন বহু ইনিউমারেশন ফর্মই বিএলও অ্যাপ মারফত অনায়াসে আপলোড হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাইই নয়, শধু পদবি দিলেও লিঙ্ক হয়ে যাচ্ছে ফর্ম। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত ভোটার কি না, তা কোনওভাবেই চিনতে পারছে না বিএলও অ্যাপ। আর তাই এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। 
ফর্ম স্ক্যান করে আপলোডের পর এখন অ্যাপে শুধুমাত্র দু’টি অপশনে কাজ করতে পারছেন বিএলওরা। প্রথম, যাঁদের ২০০২ সালের কোনও তথ্য দেওয়া নেই, তাঁদের জন্য একটি ট্যাব। আর দ্বিতীয় ট্যাবটি হল, যাঁদের ২০০২ সালের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে, তাঁদের তথ্য ‘ইনপুট’ করে ডিজিটাইজেশন সম্পূর্ণ করা। এই দ্বিতীয় অপশনে কাজ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কোনও ফর্মে উল্লেখ করা ২০০২ সালের বিধানসভা ক্ষেত্র, অংশ নম্বর এবং ক্রমিক সংখ্যা মিলে গেলেই সেই ফর্মের ক্ষেত্রে আর কোনও তথ্য প্রয়োজন হচ্ছে না। ফর্মে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট ভোটারের সমস্ত তথ্য সহজেই উঠে যাচ্ছে অ্যাপে। এখানেই তৈরি হয়েছে ধন্দ। কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করেছেন কি না, অ্যাপ মারফত তা যাচাইয়ের কোনও সুযোগ নেই। 
অর্থাৎ যদি দেখা যায়, কোনও ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, অথচ তিনি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের সময় ওই বছরের ভোটার তালিকায় থাকা কোনও ব্যক্তির বিধানসভা ক্ষেত্র, অংশ নম্বর ও ক্রমিক সংখ্যা লিখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন, তাহলেই আপলোডে সমস্যা থাকছে না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আত্মীয় হিসেবে সঠিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন কি না, অ্যাপে তা যাচাইয়ের উপায় নেই। মানেটা হল, তিনি প্রকৃত ভোটার কি না, অ্যাপ মারফত চিহ্নিত করার কোনও ব্যবস্থাই নেই। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এজন্য ম্যাপিংই দায়ী (বর্তমান তালিকার সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই)। কারণ কোনও ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলে তাঁর ম্যাপিং সম্পন্ন করে অ্যাপে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই ম্যাপিংয়ে থেকে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যে কেউ আত্মীয় দেখিয়ে দিয়ে ফর্ম পূরণ করলে, অ্যাপ সেটাই গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে অ্যাপ শুধু ম্যাপিং অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভোটারের বিধানসভা ক্ষেত্র, অংশ নম্বর ও ক্রমিক সংখ্যা চিহ্নিত করছে এবং ইনিউমারেশন ফর্ম লিঙ্ক করতে সাহায্য করছে। এতেই প্রশ্ন উঠছে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। কারণ এমনটা হলে আদৌ কি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ