নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে শুরু হচ্ছে নন্দকুমার-দীঘা জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। নানা জটিলতায় এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ আটকে ছিল অনেক দিন। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে প্রথম পর্যায়ে চাউলখোলা থেকে দীঘা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মিটার প্রশস্ত রাস্তা চওড়া করে সাড়ে ১০ মিটার করার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে রামনগর-অলঙ্কারপুর গ্রিনফিল্ড বাইপাস তৈরির কাজের অনুমোদনও মিলেছে।
কলকাতা-দীঘা রুটের নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত ১১৬বি জাতীয় সড়ক। নামে জাতীয় সড়ক হলেও এই ৮৮ কিলোমিটার রাস্তার বেশিরভাগ অংশই মাত্র সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া। তাছাড়া, এই সড়ক ধরে যেতে গেলে অনেকগুলি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা পেরতে হয়। ফলে দুর্ঘটনার বাড়তি আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনই যানবাহনের গতি শ্লথ হয়। নন্দকুমার থেকে দীঘা অভিমুখে প্রথম ২৫ কিলোমিটার রাস্তা সাড়ে ১০ মিটার চওড়া। তার পর থেকে চাউলখোলা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া। এই অংশও সাড়ে ১০ মিটার করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ১১ থেকে ১২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। ১৯৫৬ সালের জাতীয় সড়ক অধিগ্রহণ আইনের বলে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই কাজ চলছে জোর কদমে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে এই অংশের জমি অধিগ্রহণও শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারপর এই অংশ সম্প্রসারণের জন্য দরপত্র ডাকা হবে। তবে চাউলখোলা থেকে দীঘা পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং রামনগর-অলঙ্কারপুর বাইপাসের জন্য মোট ৪৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের কাজ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। নিয়ম হল, কোনো প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জমির ৯০ শতাংশ অধিগ্রহণ হলে তবেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলে ৮৮ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হলেও নানা কারণে বাকি কাজ এগচ্ছিল না। তাই এই প্রকল্প বাতিলের হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিল কেন্দ্র। তখন কেন্দ্রের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়ে চিঠি দেয় রাজ্য সরকার। এবার ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ায় গত সপ্তাহেই কাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, চাউলখোলা থেকে দীঘা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের জন্য দরপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও হয়ে গিয়েছে।
অর্থাৎ, কাজ শুরু হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই অংশের কাজের জন্য খরচ হবে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচ ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি। দু’টি পর্যায়ে নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক সাড়ে ১০ মিটার চওড়া হলে যাতায়াতে প্রভুত সুবিধা মিলবে বলে মনে করছে সরকারি কর্তারা।
প্রতি বছর ৫০ লক্ষের বেশি পর্যটক দীঘায় যান। এর অধিকাংশই যান সড়কপথে বাস বা গাড়িতে। মন্দারমণিও যেতে হয় এই পথে। এর সঙ্গে দুই মেদিনীপুর জেলার বড়ো অংশের মানুষের যাতায়াত তো আছেই। কলকাতা থেকে গাড়িতে দীঘা পৌঁছাতে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তা চওড়া হলে আরও কম সময়ে দীঘার সৈকতে পৌঁছে যেতে পারবেন তাঁরা।