Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারাতলায় ২০ লাখের ‘ডিলে’ বন্ধ নজরদারি? দাবি সিটের

তারাতলায় ২০ লাখ টাকার ‘ডিলে’ নজরদারি বন্ধ হওয়ার অভিযোগ। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত চলছে। বিস্তারিত জানুন।

তারাতলায় ২০ লাখের ‘ডিলে’ বন্ধ নজরদারি?  দাবি সিটের
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে। তারাতলা বিপর্যয়ে বাড়ছে মৃত্যুমিছিল। শুক্রবার ১১ থেকে বেড়ে মৃতের সংখ্যা ছুঁল ১৬। উদ্ধারকাজের সময়ই এদিন আরও দু’টি নিথর দেহ উদ্ধার হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এছাড়া চিকিৎসারত আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে শুক্রবার। মৃতরা হলেন, খালেক সর্দার, বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা মুন্না কুমার (১৯), জগদ্দলের স্বপন মণ্ডল (৫৬)। বাকি দু’জনের পরিচয় রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। চারজনকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। তবে উদ্ধার অভিযান চলেছে এনডিআরএফের নেতৃত্বে। সাতটি টিম কাজ করছে তাদের। এদিন উদ্ধারে অবশ্যই সঙ্গ দিয়েছে আবহাওয়া। ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় দ্রুত এগিয়েছে কাজ। ব্যবহার হয়েছে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ভিকটিম লোকেটিং ক্যামেরা ও লাইফ ডিটেক্টর মেশিন। পরিস্থিতি সহায় থাকলে গভীর রাত বা সকালের মধ্যেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এদিনও ক্ষোভ এতটুকু লুকিয়ে রাখেননি তিনি। বারবার বুঝিয়েছেন, এই ঘটনার নেপথ্যচারীদের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাবেন তিনি। আর তাঁর সেই লক্ষ্যেই শান দিচ্ছে সিট। বিল্ডিং প্ল্যান পাশ থেকে নজরদারি, স্ক্যানারে তাদের গোটা পর্ব। 

Advertisement

সিটের দাবি, তারাতলার বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির সময় থেকেই আসরে পুরোদস্তুর ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির সময়ই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ধৃত আব্দুল হামিদ। সে ওই এলাকায় জমি-বাড়ির দালালির কাজ করে। কালী তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনো অনুমোদন পেতেই অসুবিধা হবে না। নজরদারিও থাকবে না। তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, এর জন্য প্রাথমিক ‘ডিল’ হয়েছিল ২০ লক্ষ টাকার। তারপর যা হবে ‘সিন্ডিকেট’ বুঝবে। নিয়ম বহির্ভূত বহু সমীকরণে প্রভাব খাটিয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ আদায় করে নিয়েছিলেন কালী। কাগজে-কলমে সবটাই ঠিক দেখানো হত। কিন্তু ‘সাইটে’ বদলে যেত নির্মাণকাজ। সিটের দাবি, আপেক্ষিকভাবে প্ল্যানে গলদ ছিল। পুরসভা অন্দরমহল থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, বিল্ডিং প্ল্যানে ত্রুটি ছিল না। কারণ, মিউনিসিপাল বিল্ডিং কমিটি প্ল্যান অনুমোদন করেছিল। সেই কমিটিতে শুধু পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা থাকেন না। এলবিএস, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, দমকল, কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়ার সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি হয় কমিটি। তারা প্ল্যান খতিয়ে দেখে সই করে। তারপর তা সই করেন পুর কমিশনার এবং মেয়র। যা হয়েছে, প্ল্যান পাশের পর। কারণ, পরিদর্শনই হয়নি নির্মাণস্থলের। কাগজে-কলমে অবশ্য দেখানো হত, ‘ইনস্পেকশন হয়েছে’। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারের পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। তারপর মেলে মূল নির্মাণের অনুমোদন। সিটের দাবি, এই সবই বন্ধ হয়েছিল প্রভাব খাটিয়ে।
শুক্রবার কালীচরণকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, ‘কালী প্রভাবশালী। তাঁর মাথায় কে আছে, সেটা জানা দরকার। তারাতলার প্ল্যান ঠিক ছিল না। ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান পাশ করিয়ে দিতেন কালী। এভাবে বহু বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়েছেন।’ ৪ জুলাই পর্যন্ত তাঁর পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ