নয়াদিল্লি: পর্যাপ্ত এলপিজি রয়েছে দেশে। তাই রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এমনই আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে অহরহ। তবে সেই আশ্বাসে চিঁড়ে ভিজছে না। বরং গ্যাস পাওয়া যাবে না, এই আতঙ্কে সরবরাহ কেন্দ্রের বাইরে সকালে থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মানুষজন। এ চিত্র গোটা দেশে। কোথাও কোথাও আবার গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। যেমন দিল্লিতে। রাজধানীতে এক একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। এই অবস্থায় গ্যাস স্টেশনের বাইরে পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। সূত্রের খবর, এলাকায় কতগুলি গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে, সেখানে কত গ্যাস মজুত রয়েছে। কাদের সরবরাহ করছে, সবই পুলিশকে দেখতে বলা হয়েছে।
ওড়িশায় গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ করে উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবিতে বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কংগ্রেস বিধায়করা। তাঁদের সমর্থন জানান বিজেডি বিধায়করা। রাজ্যে কোথাও কোথাও দেড় হাজার টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজির বন্ধ করতে ব্যর্থ মোহন মাঝি সরকার। একই পরিস্থিতি আরও এক বিজেপি শাসিত রাজ্য ছত্তিশগড়েও। রাজ্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার দাবি করেছে বিরোধী কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা চরণদাস মোহন্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজ্যে গ্যাসের সংকট দেখা দেবে না। তবে কার্যক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে আবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার।
এদিকে, বিহারের বিভিন্ন জেলায় সকাল থেকে গ্যাস এজেন্সির সামনে সিলিন্ডার নেওয়ার লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বুধবারই দাবি করেছিলেন, বিহারে গ্যাসের সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, কালোবাজারির চেষ্টা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেরলে আবার বুকিং সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করেও গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এক সরবরাহ সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাদিন ধরে এই নিয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। তবে কী উত্তর দেব, বুঝতে পারছি না।