Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিএলএ নিয়োগে নিয়মের গেরো, বিপাকে রাজ্যের বিরোধী দল ও প্রশাসন

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার স্পেশাল ‌ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে সরগরম দেশের রাজনীতি। যা নিয়ে বাংলা রাজনৈতিক ভাবে বেশি তপ্ত।

বিএলএ নিয়োগে নিয়মের গেরো, বিপাকে রাজ্যের বিরোধী দল ও প্রশাসন
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার স্পেশাল ‌ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে সরগরম দেশের রাজনীতি। যা নিয়ে বাংলা রাজনৈতিক ভাবে বেশি তপ্ত। বিজেপি হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, এসআইআরে ভিনদেশিদের নাম কাটা যাবে। তাতেই বিপাকে পড়বে তৃণমূল। কিন্তু কমিশনের নিয়মে এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে রাজ্যের বিরোধীদলগুলি। জানা গিয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই তাঁদের বুথ লেভেল এজেন্টের নিয়োগপত্র দিতে হবে। সেই নিয়োগপত্রে থাকবে বিএলএর ছবি ও মোবাইল নম্বর। শুরু তাই নয়, যে বুথের তিনি বিএলএ হবেন, তাঁকে সেই এলাকার ভোটার হতে হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। তারা চাইছে, পার্শ্ববর্তী বুথের ভোটারদেরও যেন সেই বুথের বিএলএ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একই অভিমত সিপিএমেরও। বিজেপি এনিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ না করলেও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে তাঁদের যে সংগঠন তলানিতে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থায় কী করে প্রতি বুথে বিএলএ দেওয়া হবে তা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। 

Advertisement

বিএলএ নিয়োগ নিয়ে শুধু রাজনৈতিক দলগুলি নয়, জেলা প্রশাসনও বিপাকে পড়েছে। জানা গিয়েছ, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ করতে হবে সেই বুথের বাসিন্দা সরকারি কর্মচারি বা সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষককে। তা না পাওয়া গেলে সেই বুথের বাসিন্দা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা প্যারা টিচারকে নিয়োগ করতে হবে। তাও না পাওয়া গেলে কমিশনের অনুমোদন ক্রমে সেই বুথে কর্মরত সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষককে নিয়োগ করা যাবে। জেলায় রয়েছে ২ হাজার ৫০৪টি বুথ। তার মধ্যে ৯০০ অধিক বুথে প্রথম দু’টি ক্যাটাগরিতে বিএলও নিয়োগ করা যায়নি। তাই কমিশনের অনুমোদনের জন্য তৃতীয় শর্ত মেনে বিএলও নিয়োগের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। তাতে সম্মতি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সিইও অফিস।  অতিরিক্ত জেলাশাসক সুহাসিনী ই বলেন, ন’শোর বেশি বুথে সেই এলাকার সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী না পাওয়ায় সিইও অফিসের অনুমোদনে ওই এলাকার কর্মরত সরকারি কর্মচারী, শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দিচ্ছি। 
ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বিএলএদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসআইআরের ক্ষেত্রেও সেই কথা প্রযোজ্য। কিন্তু সব বুথে কি বিএলএ নিয়োগ করতে পারবে বিরোধীরা, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে সামনে এসেছে। কয়েকদিন আগে হওয়া সর্বদল বৈঠক থেকে বেরিয়েই এনিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, কমিশন বলেছে বিএলএকে সেই বুথের ভোটার হতে হবে। আমরা আর্জি করেছি পার্শ্ববর্তী বুথ থেকেও যাতে বিএলএ নিয়োগ করা যায়, তার অনুমতি কমিশনকে দিতে হবে। সিপিএম নেতা মনোজ দত্ত বলেন, আমরা চাই একটি পোলিং স্টেশন প্রিমিসেসের জন্য একজন করে বিএলএ নিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হোক। 
সংখ্যালঘু বুথ নিয়ে উদ্বেগে থাকা বিজেপির প্রতিনিধি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, আমরা প্রতি বুথেই বিএলএ বসাতে পারব।  তৃণমূল কংগ্রেসের সবদলীয় বৈঠকের প্রতিনিধি অধীর গুপ্ত বলেন, যে দল জেলার ৩০ শতাংশ বুথে পোলিং এজেন্ট দিতে পারে না তারা সব বুথে বিএলএ দেবে! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ