Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু

বাঁকুড়ায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যু হল বৃদ্ধ দম্পতির। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচেছেন দম্পতির মেয়ে ও দুই নাতনি। তাঁরা দোতলার ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে কোনওভাবে প্রাণে রক্ষা পান। তবে আগুনের লেলিহান শিখায় তাঁরাও দগ্ধ হন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাঁকুড়া শহরের লালবাজারের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম নিতাই পাল(৬৫) ও মিনা পাল(৬১)। দুর্ঘটনায় তাঁদের ছোট মেয়ে ও দুই নাতনি দগ্ধ হয়েছেন। তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জখমদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের ঘটনার ফরেন্সিক তদন্ত হবে বলে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরে ফরেন্সিক দলকে ঘটনাস্থলে এসে তদন্তের জন্য জেলা পুলিসের তরফে আবেদন করা হয়েছে। 
Advertisement
পুলিস সুপার বলেন, বাঁকুড়া শহরের লালবাজার এলাকার একটি বাড়িতে গভীর রাতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। কোনও কারণে প্রথমে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়েছিল। পরে তা গ্যাস সিলিন্ডারের সংস্পর্শে আসে। তখন সেটি ফেটে যায়। আগুন বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে বৃদ্ধ দম্পতির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। নিতাইবাবুর ছোট মেয়ে বছর আটত্রিশের ফুলেশ্বরী রক্ষিত এবং দুই নাতনি পরিণীতা ও নবনীতা রক্ষিত আগুনের শিখায় জখম হন। তাঁরা দোতলার ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে নীচে নামেন। তাতেও তিনজনের চোট লাগে। জখমদের সদর থানার অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দেহ দু’টি উদ্ধার করে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। দুর্গাপুর থেকে তদন্তের জন্য ফরেন্সিক (এফএসএল) টিম বাঁকুড়ায় আসবে।  পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের রাসতলা মোড়ে নিতাইবাবুর তেলেভাজার দোকান রয়েছে। তাঁর তিন মেয়ে। ছোট মেয়ে ফুলেশ্বরীর স্বামী কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। তাই ফুলেশ্বরী দুই মেয়েকে নিয়ে বাপেরবাড়িতেই থাকেন। ঘটনার রাতে পরিবারের পাঁচ সদস্য খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়েন। মাঝরাতে ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ফুলেশ্বরী সহ বাকিদের ঘুম ভেঙে যায়। তারপরেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন গোটা বাড়িকে গ্রাস করে। 
প্রতিবেশী কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায় বলেন, মাঝরাতে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আমাদের বাড়ি কেঁপে ওঠে। প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে ভেবেছিলাম। পরে জানালা খুলে নিতাইবাবুর বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখি। ওইসময় ব্যালকনির গ্রিলে কাপড় বেঁধে দুই মেয়ের সঙ্গে ফুলেশ্বরী নীচে নামার চেষ্টা করে। কিছুটা উপর থেকেই সে ঝাঁপ দেয়। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। 
শহরেরই বাসিন্দা নিতাইবাবুর বড় মেয়ে টুম্পা পাল রক্ষিত বলেন, আগুন দেখে বড় বোনঝি পরিণীতা আমার মেজো বোনকে ফোন করে। বোন ফোনেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পায়। খবর পেয়ে রাতেই আমরা বাপেরবাড়িতে পৌঁছই। দোতলা থেকে ঝাঁপ মারার কারণে ফুলেশ্বরী পায়ে গুরুতর চোট পায়। আগুনে তিনজনেরই শরীরের বেশকিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। বাবা-মা আগুনে বাড়ির মধ্যে ঝলসে মারা যায়। 
স্থানীয় কাউন্সিলার রেখা দাসরজক আচার্য বলেন, আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি। এদিন প্রশাসনের লোকজনও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। জখমদের চিকিৎসার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ