নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মালদহে তৃণমূল নেতা খুনের জেরে বাঁকুড়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেহরক্ষী সম্পর্কিত পর্যালোচনা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই করতে চলেছে বাঁকুড়া জেলা পুলিস। উত্তরবঙ্গের ওই জেলায় হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলারের হাড়হিম করা খুনের ঘটনা সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই নেতার দেহরক্ষী না থাকার বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় পুলিস কর্তারা আলোচনা শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলমহলের জেলা বাঁকুড়াতেও পুলিস সক্রিয় হয়েছে। দেহরক্ষীদের একাংশ জেলা পুলিসকে না জানিয়ে অনেক সময় অন্যত্র চলে যান বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে ‘ম্যানেজ’ করে তাঁরা জেলার সীমানা ছাড়িয়ে বাড়ি বা অন্য জায়গায় ঘুরতে যান। উল্লেখ্য, এর আগে বাঁকুড়াতেও তৃণমূল নেতা অনিল মাহাতকে গুলি করে খুন করা হয়। রাইপুরের শাসক দলের ওই নেতার দেহরক্ষী ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। তিনি জেলা পুলিসের অনুমতি না নিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন পুলিস সুপার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। ফলে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দেহরক্ষীদের দায়িত্ব সম্পর্কেও জেলা পুলিসের কর্তারা কর্মীদের সতর্ক করে দিচ্ছেন। এব্যাপারে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আধিকারিক সহ অনেকেই দেহরক্ষী পেয়ে থাকেন। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য এক বা একাধিক পুলিস কর্মীকে মোতায়েন করা হয়। সাধারণত বছরে দু’বার আমরা বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ তা হওয়ার কথা ছিল। তবে মালদহ কাণ্ডের পর তা এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। দেহরক্ষী হিসাবে নিযুক্ত পুলিস কর্মীদের আমরা দায়িত্ব সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করি। এখন আর কেউ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে খেয়ালখুশি মতো অন্যত্র যায় না। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে গোপনীয়তার স্বার্থে এর বেশি কিছু আমি বলব না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় সবমিলিয়ে শতাধিক ব্যক্তি সরকারি নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। পুলিস লাইনের রিজার্ভ বাহিনী থেকে কনস্টেবলদের ওই ডিউটিতে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে আধিকারিক বা গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দেখভালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর(এএসআই) পদমর্যাদার আধিকারিকদেরও নিয়োগ করা হয়। কারও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে কিনা তা মূলত জেলা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ(ডিআইবি) খতিয়ে দেখে। ওই বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিস সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে রাজ্যের নির্দেশেও আমরা অনেক সময় দেহরক্ষী নিয়োগের ব্যবস্থা করে থাকি। বাম আমলে জঙ্গলমহলে মাওবাদী হামলার আশঙ্কায় সিপিএম নেতা-কর্মীদের সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হতো। ওইসময় জেলার বিরোধী দলের নেতাদের একাংশও তা পেতেন। বর্তমানে জঙ্গলমহল শান্ত রয়েছে। তবে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তারজন্য বিধায়ক থেকে শুরু করে পুরসভার চেয়ারম্যান অনেককেই দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে। সেসবই পুলিস নতুন করে খতিয়ে দেখবে। তারপর রক্ষীর সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি সহ নানা সিদ্ধান্ত প্রয়োজনের নিরিখে নেওয়া হবে।



