Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বকেয়া বেতনের দাবিতে এবার আন্দোলনে জল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা

বকেয়া বেতনের দাবিতে এবার আন্দোলনে জল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: গত ডিসেম্বরের শুরুতেই দু’মাসের বেতন বকেয়া থাকায় কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাইকর্মীরা। টানা তিনদিনের ধর্মঘটের জেরে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল পুরুলিয়া পুরসভাকে। বহু ‘কষ্টে’ সাফাইকর্মীদের বেতন দিয়ে কাজে নামিয়েছে পুরসভা। এবার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিলেন জল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। শনিবার দু’মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে তাঁরা পুরসভায় বিক্ষোভ দেখান। 
Advertisement
পুরসভার জলবিভাগে প্রায় ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা সময়ে বেতন পাচ্ছেন না। তারমধ্যেই সামনেই আবার মকরসংক্রান্তি। এখনও দু’মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাঁদেরও তো পরিবার রয়েছে। তাঁদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে হবে। কোথায় টাকা পাওয়া যাবে? তাঁদের ক্ষোভ, পুরসভা দুর্গাপুজোর সময় বোনাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অন্তত মাইনেটা তো সময়ে দিক। জল বিভাগের কর্মী রতন রজক বলেন, আমরা এমনিতেই কম বেতনে কাজ করি। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সময়ে মাইনে কেন দেবে না? অন্য কর্মীরা বলেন, বেতনের জন্য আমাদের বারবার চেয়ারম্যানের কাছে আসতে হয়। প্রতিবারেই তিনি আশ্বাস দেন। কিন্তু, বেতন দেন না। এরকমটা কেন হবে? মাস শেষ হলে বেতন দেবে, এটাই তো নিয়ম। এনিয়ে তাঁরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। 
চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালির অবশ্য দাবি, পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হয়। বর্তমানে পুরসভায় আর্থিক সমস্যা চলছে। তাই বেতন দিতে দেরি হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি বেতন মিটিয়ে দেওয়ার। এদিন চেয়ারম্যান অস্থায়ী কর্মীদের এজেন্সির অধীনস্থ হওয়ার প্রস্তাব দেন। চেয়ারম্যান বলেন, পুরসভার সাফাই বিভাগ থেকে জল, সকলেই অস্থায়ী কর্মী। পুরসভার সেভাবে আয় নেই। প্রতি মাসে বেতন বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা দিতে গিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। তাই ভারতীয় রেল থেকে হাসপাতাল, সব জায়গাতেই বর্তমানে যেভাবে এজেন্সির মাধ্যমে কাজ হচ্ছে, পুরুলিয়া পুরসভাতেও সেরকমই চাইছি। তাতে তাঁরা মাসের শেষে মাইনেও যেমন পাবে, তেমন পিএফ, মেডিক্যাল সহ নানা সুবিধাও পাবে। যদিও অস্থায়ী কর্মীরা এতে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন। পুরসভা সূত্রের খবর, পুরসভার সাফাই, জল, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন দপ্তর মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় দেড় হাজার জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। প্রতি মাসে তাঁদের বেতনের জন্য খরচ হয় প্রায় ৮০লক্ষ টাকা। অথচ পুরসভার নিজস্ব তহবিলে আয় তার অর্ধেকও নয়। এক খাতের বরাদ্দ টাকা অন্য খাতে খরচ করে গোঁজামিল দিয়ে পুরসভা চলছে। পুরসভার আয় বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগীও হয়নি পুর কর্তৃপক্ষ। ফলে, অচলাবস্থাও ঘুচছে না পুরসভার।
সম্পর্কিত সংবাদ