নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একটি দেশের রাজধানী শহর। অন্যটি ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী। দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কের দূরত্ব কমবেশি দেড় হাজার কিলোমিটার। অথচ মাত্র দু’মাস সময়ের ব্যবধানে সেই দেড় হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব নিমেষে ঘুচে গেল জেন জি’দের ভাবাবেগে। ফারাক শুধু একটিই। গত ৬ জুন দিল্লির যন্তরমন্তরে নিট কেলেঙ্কারির জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যখন প্রথমবার প্রকাশ্য সমাবেশ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, তখন সিজেপি বা অভিজিৎ দিপকে মোটের উপর অচেনাই। কিন্তু শুক্রবার, ২ অক্টোবর, গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে এসআইআর কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ জেল ভরো আন্দোলন শুরু করছে, সিজেপি এবং অভিজিৎ দিপকেরা রাজনীতিতে যোগ না দিয়েও রীতিমতো ‘পলিটিক্যাল সেলিব্রিটি’র তকমা পেয়েছেন। কারণ তাদের আন্দোলনের জেরেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধান। ৬ জুন দিল্লির কর্মসূচিতে শুরুর দিকে কেন্দ্র তাই তেমন গুরুত্ব না দিলেও ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের বিক্ষোভ সমাবেশে আর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করল না বিজেপি সরকার।
পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ করে দেওয়া হল গোটা শিবাজি পার্ক চত্বর। এমনকি আন্দোলন শুরুর আগের রাতে, বৃহস্পতিবার মেরিন ড্রাইভ থেকে অভিজিৎ দিপকেকে ‘আটক’ করা হয়েছে বলে খবরও ছড়ানো হল। ককরোচ জনতা পার্টি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সিজেপি প্রধানকে আটক করার খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। বিজেপির কারসাজি। শুধু তাই নয়। এদিন আন্দোলন শুরুর আগেই ‘জেন জি নেক্সটে’র ব্যানারে হাজির হল কিছু মানুষ। শিবাজি পার্কে তারা বিক্ষোভ শুরু করল ‘ককরোচ’দের বিরুদ্ধেই। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ‘ককরোচ’দের জন্য। মহারাষ্ট্র সরকার মুম্বইয়ে আন্দোলনের জন্য আজাদ ময়দানকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও শিবাজি পার্কে আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির দাবি, পদ্মশিবিরের অঙ্গুলিহেলনেই এমন ‘নাটক’ করা হচ্ছে। এদের গুরুত্ব দেওয়া অর্থহীন।
শুক্রবার মুম্বইয়ে দিনভরের ছবি থেকে পরিষ্কার, পালটা বিক্ষোভকারীদের বিশেষ পাত্তা দেয়নি মুম্বইয়ের আমজনতা। বরং হাজার হাজার মানুষ ‘ককরোচ’দের সমর্থনে শিবাজি পার্কে হাজির হয়েছেন। এদিন বিকাল ৪টে থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার দাবিতে মুম্বইয়ে জেল ভরো আন্দোলন শুরুর ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দেখা যায়, তার ঢের আগে থেকেই হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে আমআদমি প্রবেশ করছে শিবাজি পার্কে। গার্ডরেলের ব্যারিকেড, বারবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আইডি কার্ড দেখানোর ঝক্কিও গায়ে মাখেনি জনতা। মাসদু’য়েক আগে ঠিক যে ছবি দেখা গিয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তরে। মুম্বই পুলিশ সরকারিভাবে জানিয়েছে, শুক্রবার শিবাজি পার্কে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল। সিজেপি অবশ্য আরও বড়ো জমায়েতের দাবি করেছে। এদিন প্রতিবাদ মঞ্চে দিপকে বলেছেন, ‘গান্ধী দেশের অন্তরাত্মা। আম্বেদকর শিরদাঁড়া। তা মাথায় রাখা জরুরি।’ অন্য বিশিষ্টদের সঙ্গে এদিন ‘ককরোচ’দের মঞ্চে হাজির হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। নরেন্দ্র মোদিকে চরম কটাক্ষ করে দিপকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু ফ্যাশন আর ওয়ার্ল্ড ট্যুরের বিষয়ে জানেন। দেশবাসীর কষ্টার্জিত টাকায় তিনি বিদেশ ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন। জনগণ সব দেখছে। সবকিছুরই হিসাব হবে। তৈরি থাকতে হবে।’