Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বকে প্রত্যাখ্যান ‘হিন্দু শহিদ দিবস’ কর্মসূচি ফ্লপ

মুর্শিদাবাদের ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার রাজ্যজুড়ে ‘হিন্দু শহিদ দিবস’ পালন করেছে বিজেপি।

বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বকে প্রত্যাখ্যান ‘হিন্দু শহিদ দিবস’ কর্মসূচি ফ্লপ
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মুর্শিদাবাদের ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার রাজ্যজুড়ে ‘হিন্দু শহিদ দিবস’ পালন করেছে বিজেপি। জনগণের ‘পালস’ বুঝতে এই কর্মসূচিই ছিল বিজেপি নেতাকর্মীদের অন্যতম হাতিয়ার। কিন্তু পুরুলিয়া সহ রাজ্যের অধিকাংশ জায়গাতেই ফ্লপ হল এই কর্মসূচি। বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বকে প্রত্যাখ্যান করলেন বাংলার মানুষ। 

Advertisement

একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও ‘হিন্দুত্ব’কে আঁকড়ে ধরেই ভোট বৈতরণী পার করতে চেয়েছিল বিজেপি। হিন্দু ভোটারদের মন পেতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন বিজেপি নেতারা। যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে একের পর এক কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতারা এসে হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়াতে থাকে বাংলায়। কুমন্তব্য করে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে হিন্দুদের। কিন্তু বিজেপির এই হিন্দুত্বকে ভালোভাবে নেয়নি বাঙালি। হিন্দু-মুসলিমের সহাবস্থানই দেখতে অভ্যস্ত যে রাজ্য, ভোরের বাতাসে যেখানে মিলেমিশে এক হয়ে যায় আজান আর মন্ত্র উচ্চারণ, সেই শান্তির রাজ্যে অশান্তির কালবৈশাখীকে রুখে দিয়েছে বাঙালি। বাংলাকে হিন্দুরাজ্য করার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গিয়েছে বিজেপি নেতাদের। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এহেন ভরাডুবি হলেও আগামী ছাব্বিশের বিধানসভায় ফের উগ্র হিন্দুত্বকেই সম্বল করতে চাইছে বিজেপি। যার মহড়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
মুর্শিদাবাদে হিংসায় গোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুনের প্রতিবাদে রাজ্যের সমস্ত জায়গার পাশাপাশি পুরুলিয়াতেও ‘হিন্দু শহিদ দিবস’ পালন হয়। পুরুলিয়া শহরের কর্মসূচিতে মেরেকেটে ৫০জন ছিল কি না সন্দেহ। পুরুলিয়া শহর তৃণমূলের সভাপতি প্রদীপ ডাগা বলেন, পুরুলিয়া শহরে দেড় লক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। কর্মসূচিকে নিয়ে যেভাবে প্রচার করেছিল বিজেপি, ভেবেছিলাম অন্তত ১৫হাজার না হোক, ১৫০জন মানুষ নিশ্চয়ই এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। কিন্তু দেখছি মাত্র ২৫-৩০জনকে নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে! মানুষ যে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের ফাঁদে পা দিচ্ছে না, এটা পরিষ্কার। 
যদিও পাল্টা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, সবাই রাস্তায় এসে হিন্দু শহিদবেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে না পারলেও, মুর্শিদাবাদের ঘটনা দেখে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেবে বলে প্রতিজ্ঞা নিয়ে নিয়েছেন। তাই তৃণমূলের নেতাদের এত গাত্রদাহ হচ্ছে। 
শহরের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজন বলছেন, দাঙ্গা হিন্দু কিংবা মুসলিমরা করে না, দাঙ্গা করে দাঙ্গাবাজরা। এর পিছনে থাকে বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। থাকে ভোটের খেলা। তাই করছে বিজেপি। দাঙ্গার ছবি দেখিয়ে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। কোনও একটি ধর্ম ‘বিপদে’ রয়েছে বলে সেই সম্প্রদায়ের মানুষকে তাতানো হচ্ছে। ধর্মের জিগির তুলে সম্প্রীতির ক্ষেত্র বাংলাকে অশান্তকরার চেষ্টা করছে বিজেপি। তা বাংলার মানুষ বুঝতে পারছেন। 
এনিয়ে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সুব্রত মাহাত বলেন, আসলে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতায় মেতেছে। দুই দল দু’টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে তোষণ করে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ