Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমবায় ভোটের আগে নেশাগ্রস্ত প্রৌঢ়কে নিয়ে রাজনীতি বিজেপির

অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে জখম হওয়া এক প্রৌঢ়কে নিয়ে সুকৌশলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছিল বিজেপি।

সমবায় ভোটের আগে নেশাগ্রস্ত প্রৌঢ়কে নিয়ে রাজনীতি বিজেপির
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে জখম হওয়া এক প্রৌঢ়কে নিয়ে সুকৌশলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু খোদ জখমের স্ত্রী-ই বিষয়টিতে জল ঢেলে দেওয়ায় মুখ পুড়ল বিজেপির। মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রানিচকে এই ঘটনা ঘটে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রানিচকে রাস্তায় টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গিয়ে জখম হন বিজেপি সমর্থক ভীমচরণ মণ্ডল। তাঁর বাড়ি রানিচক গ্রামেই। পড়ে যাওয়ার পর ডান চোখের উপরে ফেটে যাওয়ায় তাঁকে মহেশপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভীমচরণের স্ত্রী কবিতা মণ্ডল বলেন, আমার স্বামী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মদ ছাড়া থাকতে পারে না। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যায়। কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে। মঙ্গলবার সকালে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভীমচরণ নেশাগ্রস্ত তা এলাকার লোকজন জানেন। তিনি এদিন সকালে রাস্তায় পড়ে জখম হয়েছেন বলে তাঁর স্ত্রী জানালেও বিজেপি নেতৃত্ব তাতে সুকৌশলে রাজনীতির ফায়দা তুলতে নেমে পড়েছে। আগামী ২৫জানুয়ারি রানিচক সমবায় সমিতির নির্বাচন। মোট ৪৫টি সিটে ভোট হবে। রানিচক ও সংলগ্ন এলাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত। আগামী ১৬জানুয়ারি মনোনয়ন জমা হবে। তার আগে ভীমচরণের ঘটনাকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপি সস্তা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার ভীমচরণকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জখম ওই প্রৌঢ় পড়ে যাওয়ার কথা বললেও তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দেন বিজেপির নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভানেত্রী মমতা পাত্র। ওই বিজেপি নেত্রী বলেন, সামনে রানিচক সমবায় সমিতির ভোট আছে। সেই ভোট নিয়ে সোমবার বিকেল থেকে ভীমচরণকে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোরে আমাদের ভীমচরণবাবু রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। সেইসময় রানিচক ব্রিজের কাছে তাঁকে ভোজালির কোপ মারা হয়। তৃণমূলের লোকেরাই এটা করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুবিচার চাই।
স্থানীয় আমদাবাদ-২ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শেখ সাহাদাত বলেন, বিজেপির কতটা দেউলিয়া হলে এরকম মিথ্যাচার করতে পারে সেটাই আমরা ভাবছি। ভীমচরণ মদ্যপ অবস্থায় ঘুরে বেড়ান। এরকম একজনকে মারধর করার প্রশ্নই আসে না। তিনি সকালে বেরিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হন। আমরা ভীমচরণের দাদা ও বউদিকে বলেছি, তাঁর চিকিৎসা চলাকালীন পাশে থাকতে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্বের কাছে ওই প্রৌঢ় নিরাপদ বলে আমরা মনে করি না। শুনেছি, পদ্মপার্টির লোকজন পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।
জানা গিয়েছে, জখম ভীমচরণ রানিচক সমবায় সমিতির ভোটার। যদিও এদিনের আঘাতের সঙ্গে হামলার যোগ নেই বলে জখম ওই প্রৌঢ়ের স্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি। তবুও অনড় বিজেপির দাবি, শাসকদলের লোকজনই ভীমচরণের উপর হামলা চালিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ