নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও কলকাতা: ‘নির্বাচনের প্রাক লগ্নে বাংলায় অশান্তির ছক কষছে বিজেপি। চেষ্টা করছে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মধ্যে বিভাজন ঘটিয়ে ভোটযন্ত্রে ফায়দা তোলার।’ এসআইআর পর্ব এবং ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা-খুনের ঘটনায় যেভাবে বিভেদের রাজনীতি বেআব্রু হয়ে পড়ছে, তাতে গেরুয়া ব্রিগেডকে আর রেয়াত করলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলা সফরের আগে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন বিজেপিকে।
এসআইআর আবহে ভোটমুখী বাংলায় প্রতিদিন চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রহর গুনছেন সকলেই। তার মধ্যে এসআইআর কেন্দ্রিক শুনানির নামে হয়রানি বাড়তে থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছে আম জনতা। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন ঘটিয়ে সুস্থ বাংলার শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করার ছক কষছে তারা। বিশেষত মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো রাজ্যের কয়েকটি স্পর্শকাতর জায়গাকে টার্গেট করেছে বিজেপি। ভোটের আগে বাংলায় বিজেপির কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, তার বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ইচ্ছে করে বাংলায় অশান্তির পরিকল্পনা করছে। ওরা ভোটে জিততে পারবে না। সাধারণ মানুষের ভোট পাবে না জেনেই ঘোঁট পাকাচ্ছে। বিজেপির কথামতো কেন্দ্রীয় এজেন্সি নেমে পড়েছে অশান্তি বাধানোর কাজে। একদিকে করছে লুট, অন্যদিকে বলছে ঝুট।’
এভাবেই বিজেপি বাংলার চিরন্তন শান্তি-সম্প্রীতি-সংহতি ভাঙার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ মমতার। এদিন শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় মহাকাল মহাতীর্থর শিলান্যাস করে সেখানেও সম্প্রীতি ধরে রাখার বার্তাই দেন তিনি। ১৭.৪১ একর জমির উপরে হবে মহাকাল মহাতীর্থ। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির। ভারতবর্ষের ১২টি জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপ থাকবে এখানে। আর ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। মূর্তিটির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জের মূল মূর্তিটি হবে ১০৮ ফুটের। ইতিমধ্যেই মন্দির তৈরিতে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। মমতা জানান, ‘বাংলার সংস্কৃতি দেশের গর্ব। এই বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের। বাংলার এই পুণ্যতীর্থ যুগ-যুগান্ত ধরে কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে।’ বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে চড়া সুরে তাঁর আক্রমণ, ‘মালদহে ৯০ হাজার মানুষকে নোটিস পাঠাচ্ছে। আবার বলছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নেবে না। আধার নিয়েও সমস্যা তৈরি করছে। মতুয়া, তপশিলি, আদিবাসী, রাজবংশীদের নাম কেটে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এরপর কি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর বিজেপি মিলে ভোট করবে? ১ শতাংশ ভোটারও থাকবে না।’ ভিন রাজ্যে বাঙালিদের উপর বাড়তে থাকা অত্যাচার নিয়ে মমতার অভিযোগ, ‘যেখানে ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার আছে, সেখানেই প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। অসম, রাজস্থান, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ বা বিহার—সর্বত্র। এর থেকে ন্যক্কারজনক কিছু হতে পারে না।’