সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাংলার সংস্কৃতি, রাজনীতির সঙ্গে কয়েক যোজন দূরত্ব রয়েছে গোবলয়ের। হিন্দি ভাষাভাষি অন্যান্য রাজ্যগুলির সঙ্গে বাংলার রাজনীতির মিল খুব বেশি পাওয়া যায় না। সেসব রাজ্য থেকে ভাড়াটে ‘সেনা’ এনে কখনোই বাংলার মন জয় করা যায় না। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এমন কথা বহুবার বিজেপির অনেক নেতা বলে আসছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেও সেকথা বলেছেন। তারপরও বাংলায় নির্বাচন করার জন্য অন্য কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছে না বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অধিকাংশ জেলাতেই সংগঠনের অবস্থা বেহাল। জেলার নেতাদের দিয়ে কাজ হচ্ছে না। সেই কারণেই ভিনরাজ্য থেকে ভাড়াটে সেনা আনতে হচ্ছে। গত নির্বাচনগুলিতে ভোট ঘোষণা হওয়ার কিছুদিন আগে তাঁরা এসেছিলেন। এবার ডিসেম্বরেই তাঁরা বাংলায় হাজির হচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
হরিয়ানা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের বাংলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় গিয়ে তাঁরা কাজ করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার ভার তাঁদের উপর রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে তাঁরা বৈঠক করবেন। তাঁদের কথামতোই বঙ্গের নেতাদের চলতে হবে। বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, আগের নির্বাচনগুলিতে ভাড়াটে সেনারা ব্যর্থ হয়েছেন। ওঁরা বাংলার কিছুই জানেন না। শুধু জাতপাতের অঙ্ক কষেন। এসব করে বাংলার ভোট জেতা সম্ভব নয়। সেটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আপাতত রাজ্যে ৩৬জন বাইরের নেতা আসছেন বলে শুনেছি। পরে আরও অনেকেই আসবেন।
প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিটি জেলাতেই দক্ষ নেতা রয়েছেন। তাঁদের কাজে লাগানো হলে অনেক ভালো হবে। বাইরে থেকে নেতারা এসে শুধু টিপস দেবেন। এছাড়া অন্য কিছু করতে পারবেন না।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলার সংগঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সন্তুষ্ট নয়। ইতিমধ্যে তারা একটি সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষার কাজ করেছে। পরিস্থিতি ভালো নয়, টের পেয়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলার নেতাদের ভরসা করতে পারছেন না। বাইরের নেতারা এসে বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কোথায় কীভাবে কাজ করতে হবে, সেই টিপস তাঁরা দেবেন।
গত লোকসভা নির্বাচনেও তাঁরা একই কৌশল নিয়েছিলেন। সংখ্যালঘু ভোট টানার জন্য ভিনরাজ্যের কয়েকজন নেতাকে আনা হয়েছিল। তাঁরা গ্রামে ঘুরে কৌশলে প্রচার করেন। কিন্তু সেসব কিছুই কাজে আসেনি। বর্ধমান-দুর্গাপুরের মতো লোকসভা কেন্দ্র তাঁদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা এক সময় বিজেপির ‘গড়’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। সেসব এলাকাতেও লোকসভা ভোটে তারা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বাইরের নেতাদের নিয়ে এসেও তারা ফায়দা তুলতে পারেনি। তাই ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।