নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’। ২০১৯ সালে এই স্লোগান তুলে লোকসভা ভোটের ময়দান কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। সেই সঙ্গে ডাবল ইঞ্জিনের তত্ত্বও খাঁড়া করেছিলেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। বার্তা ছিল একটাই—দিল্লিতে ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে জনগণের ‘ফিলগুড’। কারও কোনও সমস্যাই আর থাকবে না। মহারাষ্ট্রে এখন ডাবল ইঞ্জিনের সরকার। প্রত্যাশিতভাবে সেখানে সব মানুষের ভালো থাকার কথা। কিন্তু বিজেপির বিড়ম্বনা বাড়িয়ে তথ্য বলছে অন্য কথা! সেই রাজ্যে নানা কারণে অবসাদের ছোবল বাংলার চেয়ে অনেক বেশি। দিনের পর দিন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। জীবন ধারণের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে না পেরে জীবনটাই শেষ করে দেওয়ার পথে হাঁটছেন অনেকেই।
মঙ্গলবার বর্ধমান সংস্কৃতি লোকমঞ্চে ‘মেন্টাল হেলথকেয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন স্কুল’ নামে একটি কর্মসূচিতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, এক বছরে মহারাষ্ট্রে ২২ হাজার ৭৪৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। তালিকায় রয়েছেন বহু পড়ুয়াও। স্বস্তিতে নেই কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুও। তবে, ডাবল ইঞ্জিনের চেয়ে সংখ্যাটা কম। কর্ণাটকে এক বছরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ১৩ হাজার ৬০৬ জন। তামিলনাড়ুতে সংখ্যাটা ১৯ হাজার ৮৩৪ জন। আর পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে যেসব গেরুয়া নেতারা অষ্টপ্রহর গেল গেল রব তুলেছেন, তাঁদের জেনে রাখা ভালো এক বছরে এ রাজ্যে আত্মহত্যা করেছেন ১২ হাজার ৬৬৯ জন।
শিশুসুরক্ষা দপ্তরের চেয়ারম্যান তুলিকা দাস বলেন, ‘মোবাইল বা অন্য কোনও জিনিস না পাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়েরা আত্মহত্যা করছে—এটা সব সময় ঠিক নয়। দেখা যাবে এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। মোবাইল বা অন্য জিনিস না পাওয়ার বিষয়টি হয়তো অনুঘটকের কাজ করেছে। পারিবারিক এবং মানসিক অবসাদের কারণে অনেকে এই পথ বেছে নেয়। এক সময় অনেকেই ধরে নেয়, আমার দ্বারা আর এগনো সম্ভব নয়। কিছু করতে পারব না। মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার পথ তাঁরা বেছে নিচ্ছেন।’ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আসাদুল রহমান বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, ছেলে মেয়েদের মধ্যে মানসিক পরিবর্তন আসছে। আগে তারা হাসিখুশি থাকত। হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে। কেন তাদের এই পরিবর্তন আসছে, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার। এদিন সরকারি তথ্য দিয়ে বলা হয়, ডিপ্রেশনের কারণে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা হচ্ছে। এছাড়া আরও বহু কারণে অনেকে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করছে ৫০ শতাংশ মানুষ। বিষ খেয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে ৩০ শতাংশ লোকজন। অনেকের মধ্যে উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঝোঁক রয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে আসছে ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে মানুষ সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে রয়েছেন। বিজেপির সরকার মানেই ‘মুমকিন’। কিন্তু, মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যা বৃদ্ধির তথ্য বেশ ফাঁপরে ফেলেছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে। যদিও দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্রের সাফাই, ‘সমস্যা সব জায়গায় রয়েছে। ব্যক্তিগত কারণের জন্যই মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে এধরণের ঘটনা প্রত্যাশিত নয়।’