শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানো নেতাদের ময়নায় গুরুদায়িত্ব দিল বিজেপি। দলে বিধায়ক অশোক দিন্ডার প্রতিদ্বন্দ্বী চন্দন মণ্ডলকে কোণঠাসা করতেই তাঁর ঘনিষ্ঠ শঙ্করলাল সামন্তকে গোজিনা অঞ্চলের কনভেনর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে বিধায়ক শিবিরের নেতা সৌমেন কর গোজিনা অঞ্চল কনভেনর হয়েছেন। এনিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল বেধেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোগ্য শিক্ষক হিসেবে সৌমেনবাবু হাইস্কুলের চাকরি খুইয়েছেন। তিনি গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান। সেই সৌমেনবাবুকে কেন সংগঠনের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন দলের বিপক্ষ শিবিরের নেতারা।
বুধবার বিজেপির ময়না-৩ মণ্ডল কমিটির সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। ওই মণ্ডলের মধ্যে বাকচা, গোজিনা এবং নৈছনপুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত পড়ে। বাকচা ও গোজিনা পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। বাকচার কনভেনর ছিলেন উত্তম সিং। তিনি জেলা পরিষদ সদস্য এবং মণ্ডল সভাপতি। সেজন্য বাকচা অঞ্চলের একজন কনভেনর নিয়োগ প্রয়োজন ছিল। সেজন্য দুলালচন্দ্র বর্মণকে কনভেনর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নৈছনপুর-১ ও ২অঞ্চলের কনভেনর পদে কোনও রদবদল করা হয়নি। যদিও ২০২৩ সালে ওই দুই পঞ্চায়েতে তৃণমূল জয়ী হয়েছে। বিতর্ক বেধেছে গোজিনা অঞ্চলে কনভেনর বদল নিয়ে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে পার্টিতে নেতৃত্ব দেওয়া শঙ্করলাল সামন্ত ওই অঞ্চলের কনভেনর ছিলেন। আচমকা তাঁকে সরিয়ে সৌমেনবাবুকে কনভেনর করা হয়েছে। সৌমেনবাবু চাকরি খোয়ানোর কারণে তাঁর ইমেজে চিড় ধরেছে। তারপরও সংগঠনে গুরুত্ববৃদ্ধি কেন, এই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির নেতারাই।
জানা গিয়েছে, কনভেনরের পদ থেকে অপসারিত শঙ্করলালবাবু বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য চন্দন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। চন্দনবাবু ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতাদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ সময় ব্লক কমিটির কনভেনর ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন বিজেপির জেলা সম্পাদক। ২০২১ সালে তিনি ব্লক কনভেনর থাকাকালীন ময়না বিধানসভা থেকে জয়ী হন অশোক দিন্ডা। ভোটযুদ্ধে বিধায়কের বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন। কিন্তু, ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটে ময়না থেকে টিকিট পাওয়া নিয়ে দুই নেতার রেষারেষি চরমে পৌঁছয়। যেকারণে একাধিক দলীয় মঞ্চ থেকে নাম না করে চন্দন মণ্ডলের উদ্দেশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেন অশোকবাবু। তারপর থেকেই দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে চলছিলেন চন্দনবাবু। আগেই তাঁকে ব্লক কনভেনরের পদ থেকে সরানো হয়েছে। সেইসঙ্গে জেলা সম্পাদকের পদ থেকে জেলা কমিটির সদস্য করে তাঁকে আরও গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে। ময়না-৩ মণ্ডল কমিটির প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সুশান্ত মিদ্যা বলেন, শঙ্করলালবাবুর জায়গায় সৌমেনবাবুকে কনভেনর করার সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। এখন কাজের লোকের চেয়ে ‘কাছের লোকজন’কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই জিনিস চললে ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে। ২০২৩ সালে সৌমেনবাবু দলে এসেছেন। পঞ্চায়েত ভোটে জয়ী হয়ে উপপ্রধান হয়েছেন। অথচ শঙ্করলালবাবু ২০১৪ সাল থেকে দল করছেন। তাঁর নেতৃত্বে গোজিনা পঞ্চায়েত আমাদের দখলে এসেছে। ওই অঞ্চলে বিধানসভা থেকে লোকসভা নির্বাচনে দলের লিড এসেছে। তারপরও তাঁর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়াটা দুঃখজনক।
শঙ্করলালবাবু বলেন, ২০১৮ সালে গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমার সময় বেধড়ক মার খেয়েছি। তারপরও প্রার্থী দিয়েছি। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছি। অশোকবাবু ও উত্তমবাবুকে তেল দিতে না পারায় আমার কনভেনর পদ খোয়া গেল। আমি আগামী দিনে বুঝিয়ে দিতে চাই।
এনিয়ে বিজেপির ময়না-৩মণ্ডল সভাপতি উত্তমবাবু বলেন, সাংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্যে গোজিনায় কনভেনর রদবদল হয়েছে। সৌমেনবাবুর মতো অনেকেই চাকরি খুইয়েছেন। সেটা কোনও ফ্যাক্টর নয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমরা ময়নায় ভালো ফল করবই।