নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিজেপির গৃহযুদ্ধে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহেশপুর সমবায় সমিতির স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রায় বন্ধের মুখে। চাষি থেষে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের ঋণ দেওয়া আটকে গিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অপারেটর বদল করে ব্যাঙ্কে জট কাটানোর জন্য ১৯ অক্টোবর রবিবার সমিতির সম্পাদক মিটিং ডেকেছিলেন। কিন্তু, সেই মিটিংয়ে চারজনের বেশি কেউ হাজির হননি। তাই, কোরামের অভাবে মিটিং হয়নি। মহেশপুর সমিতির সম্পাদক ও সভাপতি অনৈতিক কাজকর্মে যুক্ত বলে সরাসরি অভিযোগ এনে কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর এবং তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সিইওকে চিঠি দিলেন সমিতির প্যানেল চেয়ারম্যান, সহ সভাপতি সহ বিজেপির ছ’জন ডিরেক্টর। সমিতির সম্পাদক এবং সভাপতিও বিজেপির টিকিটে জয়ী। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে গুরুত্বপূর্ণ ওই সমিতির লেনদেন প্রায় বন্ধের মুখে।
ওই সমিতির চেয়ারম্যান হিমাংশু বেরা, সহ সভাপতি বুদ্ধদেব মুনিয়ান, ডিরেক্টর রণজিৎ মণ্ডল, মৃণালকুমার দাস সহ ছ’জন ১৮ অক্টোবর কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টরকে চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সমবায়ের সভাপতি ও সম্পাদক অনৈতিক কাজকর্ম করছেন। প্রতিবাদ করায় শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। সমিতির অপারেটর বদলের জন্য রবিবার ছুটির দিন মিটিং ডাকা হয়। সমিতির স্বাভাবিক কাজকর্ম ভীষণ ব্যাহত হচ্ছে। সদস্যরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন। এই সংকট থেকে সবাইকে মুক্তি হস্তক্ষেপ জরুরি।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে মহেশপুর সমবায় সমিতি। ২০২৪ সালে নভেম্বর মাসে সমিতির নির্বাচন হয়। বোর্ড দখল করে বিজেপি। মোট ১২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১টি এবং তৃণমূল একটি আসনে জয়ী হয়। এই মুহূর্তে ওই ১২ জন নির্বাচিত সদস্য ছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতি থেকে একজন এবং তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ থেকে আরও একজন বোর্ডের সদস্য। তাঁরা দু’জনে দু’টি দল থেকে বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন বোর্ড আসার পর দেখা যায়, অ্যাকাউনট্যান্ট তুলনামূলক ভালো চাকরি পেয়ে কর্মস্থল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ম্যানেজার অবসর নেওয়ার পর দু’বছর ধরে এক্সটেনশনে রয়েছেন। আগামী ৩১ অক্টোবর তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। এই অবস্থায় ম্যানেজার এবং অ্যাকাউনট্যান্ট নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিজেপির দুই গোষ্ঠী নিজেদের লোকজনকে ঢোকাতে সম্মুখ সমরে নেমে পড়ে।
মহেশপুর সমবায় সমিতির সভাপতি বিজয় মালি ও সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ মাইতি ম্যানেজার পদে ওই সমিতিরই ডিরেক্টর সত্যরঞ্জন মণ্ডলের নাম সুপারিশ করেন। তাঁদের বিরোধী গোষ্ঠী বোর্ডের অপর সদস্য মৃণালকান্তি দাসের পক্ষে দাঁড়ান। এনিয়েই শুরু হয় ঝামেলা। গত ৬ সেপ্টেম্বর ও ১৭ সেপ্টেম্বর বোর্ড মিটিং চলাকালীন মারামারি বেধে যায়। দু’পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশ একাধিকবার বাড়িতে অভিযানও চালিয়েছে। এই অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত অথৈ জলে। এদিকে, বোর্ড ক্ষমতায় আসার পর একটাও সাধারণ সভার মিটিং হয়নি। লোন মঞ্জুর হওয়ার আগে ক্রেডিট লিমিট সংক্রান্ত তথ্য জমা সহ নানা কাজ আটকে গিয়েছে। সমিতির মোট চারজন অপারেটর রয়েছেন। দুই গোষ্ঠী থেকে দু’জন থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।
সমিতির সভাপতি বিজয় মালি বলেন, সমিতিতে কোনও সমস্যা নেই। সহ সভাপতি বুদ্ধদেববাবু বলেন, সমিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর এবং তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, মহেশপুর সমবায় নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নির্বাচিতরা সকলেই নতুন। তাঁদের অভিজ্ঞতাও কম। আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি।