সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: কোচবিহারে গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘ডেপুটি’ নিশীথ প্রামাণিক। চা বলয়ে গঙ্গা থেকে বারলা অনেকেই দল বদল করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ছাব্বিশের নির্বাচনের মুখে শিলিগুড়িতে ঘাঁটি গেরুয়া শিবিরের। এখান থেকেই তাদের উত্তরবঙ্গ জুড়ে নির্বাচনী ‘ব্লু-প্রিন্ট’ বা রণকৌশল তৈরির ছক। এজন্য শুক্রবার এখানে এসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির নির্বাচী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। আজ, শনিবার তিনি দলের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে খবর। পদ্ম শিবিরের এমন অবস্থা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কয়েক বছর আগে গেরুয়া হাওয়ায় উত্তরের পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র মাথা তোলে পদ্মফুল। লোকসভা ও বিধানসভার অধিকাংশ আসন পদ্মের বাগানে পরিণত হয়। এরপর তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা ও রায়ডাক দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। দলীয় কোন্দল, দম্ভ, প্রতিশ্রুতি পালন না করা, বঞ্চনা প্রভৃতির জেরে সেই হাওয়া উধাও। এজন্য গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্র হাতছাড়া করেছে পদ্ম শিবির। আলিপুরদুয়ারের গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা ও ডুয়ার্সের আদিবাসী নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। কার্শিয়াংয়ে বেসুরো বিধায়ক বিপি বজগাঈ ওরফে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা।
এমন আবহে ছাব্বিশের নির্বাচন নিয়ে চাপে পদ্ম শিবির। এজন্য তাদের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘন ঘন আসতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের ‘হৃদপিণ্ড’ শিলিগুড়িতে। বৃহস্পতিবার বিজেপির এসসি মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা ভোলা সিং সহ রাজ্য নেতারা বৈঠক করেন। এর আগে দলের এখানকার পর্যবেক্ষক প্রদীপ ভাণ্ডারী, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব প্রমুখ এখানে আসেন। শুক্রবার এখানে এসেছেন দলের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র।
এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে শিলিগুড়িতে ঘাঁটি গাড়ছে বিজেপি। এখান থেকেই তারা গোটা উত্তরবঙ্গের নির্বাচনের রণকৌশল প্রস্তুত করবে। শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পাপিয়া ঘোষ বলেন, ওনারা বসন্তের ‘কোকিল’। এখানে এসেও কিছু করতে পারবেন না। কারণ এসআইআর সহ বিভিন্ন ইস্যুতে ওই দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন অবশ্য বলেন, শিলিগুড়ি থেকে সর্বত্র সহজে যাওয়া সম্ভব। এজন্যই এখানে দলের নেতারা থাকবেন। তবে বিধানসভা কেন্দ্র ভিত্তিক জমি কর্ষণ করা হচ্ছে। কাজেই, তৃণমূল যে খোয়াব দেখছে, তা দেখুক। রাজ্যের দুর্নীতি ও অপশাসনের জবাব দেবে আমজনতা।
এদিন দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক কার্যালয়ে জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আজ, তিনি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বুথ, মণ্ডল সহ সর্বস্তরের দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হবে বলেই খবর। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, এদিনের বৈঠকে সকলকে নিয়ে ময়দানে ঝাঁপানোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক।