নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সিএএ’র গাজর ফের ঝুলি থেকে বের করেছে বিজেপি। রীতিমতো শিবির করে বিজেপির তরফ থেকে সিএএ ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে। যাকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কৃষ্ণনগর লোকসভার বেশ কয়েকটি জায়গায় সেই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যেখানে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আসছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের সিএএ ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের যাচাই সহ বিভিন্ন কাজ করে দিচ্ছেন বিজেপির ‘ভলান্টিয়াররা’। যদিও এখনও পর্যন্ত দলীয় পতাকা লাগিয়ে ক্যাম্প করা হয়নি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিজেপির কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তরফ থেকে এই কর্মসূচি পুরোদস্তুরভাবে শুরু করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। এব্যাপারে গেরুয়া শিবিরের দাবি, সীমান্ত জেলার বাসিন্দারা নাগরকত্বের জন্য কোথায়, কীভাবে আবেদন করবেন, সেই নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। সেই বিভ্রান্তি কাটানোর জন্যই দলের কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছেন।
গেরুয়া শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি গড় কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার ভীমপুর ও আসাননগর এলাকায় বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই নাগরিকত্ব প্রদানের ফর্ম ফিলাপ করানো হচ্ছে। এমনকী নবদ্বীপ বিধানসভাতেও এই ক্যাম্প বসেছে। নাকাশিপাড়া বিধানসভাতেও এই কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। সম্প্রতি নাকাশিপাড়া বিধানসভার কাঁঠালবেড়িয়া এলাকায় বিজেপির তরফ থেকে এলাকার মানুষদের নিয়ে একটি গ্রাম্য সভা করা হয়। সেখানে বিজেপির তরফ থেকে এসআইআর এবং সিএএ নাগরিকত্বের জন্য কি কি নথিপত্র দরকার, তা সাধারণ মানুষদের বোঝানো হয়। নাকাশিপাড়া বিধানসভার এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘বহু মানুষ সেই সভায় এসেছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই এসআইআর এবং সিএএ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তা নির্মূল করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নাগরিকত্বের আবেদন করতে কোন কোন নথি নিয়ে আমাদের ক্যাম্পে আসতে হবে, তা বলা হয়েছে।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতেই এই সিএএ নিয়ে তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকে।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই সিএএ নিয়ে নদীয়া জেলায় হাওয়া তুলেছিল বিজেপি। কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসের তরফ থেকে বেশ কয়েকজনকে ডাকা হয়েছিল ভেরিফিকেশনের জন্য। ধর্মীয় অত্যাচারে বাংলাদেশ থেকে চলে আসা কয়েকজনকে শংসাপত্রও দিতে দেখা গিয়েছিল একটি সংগঠনকে। পরবর্তীকালে ভীমপুর এলাকার হাতে গোণা কয়েকজন নাগরিকত্বের শংসাপত্রও পেয়েছিলেন। যদিও তাতে বিজেপির চিঁড়ে ভেজেনি। সিএএ’র বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষ্ণনগর লোকসভায় মুখে পুড়েছিল গেরুয়া শিবিরের। ভোট মিটাতেই সিএএ ইস্যু উধাও হয়ে যায়। বিজেপি নেতাদের মুখেও এ নিয়ে আর কোনও কথা ছিল না। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফের বিজেপির তরফ থেকে সিএএ’কে ঢাল করা হচ্ছে। তৃণমূলের কটাক্ষ, মানুষের জীবন জীবিকার উন্নত করা নিয়ে কোনও রূপরেখা নেই। তাই ভোট এলে ঝুড়ি থেকে সিএএ গাজর বের করছে বিজেপি।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘সিএএ ক্যাম্প দু-এক জায়গায় চলছে। নাকাশিপাড়া, আসাননগর, ভীমপুরে এই ক্যাম্প হয়েছে। মণ্ডল ভিত্তিক দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই যোগাযোগ করে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছেন।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ এসে যাতে সিএএ’এর জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন সেই ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, বাংলায় ভোট এলেই সিএএ নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি নেমে পড়ে। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনীতি করে।’