Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খানাকুলে বিজেপির ডাকা বন্‌ধে মিশ্র সাড়া, তৃণমূলের মিষ্টিমুখ

সোমবার বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে মিশ্র সাড়া পড়ল খানাকুলে। চলেনি বেসরকারি বাস। কিছু টোটো অবশ্য চলাচল করতে দেখা যায়।

খানাকুলে বিজেপির ডাকা বন্‌ধে মিশ্র সাড়া, তৃণমূলের মিষ্টিমুখ
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল: সোমবার বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে মিশ্র সাড়া পড়ল খানাকুলে। চলেনি বেসরকারি বাস। কিছু টোটো অবশ্য চলাচল করতে দেখা যায়। অনেক বাজারও বন্ধ ছিল। রাস্তাঘাটও অন্যান্য দিনের তুলনায় ফাঁকা ছিল। তবে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে তা বন্ধ করিয়ে দেয়। তার ফলে কিছু স্কুল বন্ধ থাকে। অনেক জায়গায় আবার পুলিস গিয়ে স্কুল খোলায়। ওষুধের দোকান ও ডাক্তারখানা অবশ্য খোলা ছিল। তবে যেখানে যেখানে বনধ ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমুখ করায়। এদিন খানাকুলের রাধাবল্লভপুরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।  

Advertisement

তৃণমূলের খানাকুল ২ ব্লক সভাপতি রমেন প্রামানিক বলেন, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী রাজহাটির বাজার সোমবার বন্ধ থাকে। ফলে এদিন সেখানে দোকানপাট বন্ধ ছিল। হাতে গোনা অন্যান্য কিছু জায়গায় বিজেপির সমর্থকদের দোকানপাট বন্ধ ছিল। বাকি বেশিরভাগ জায়গায় দোকান খোলাই ছিল। বিজেপি অনেক জায়গায় গা জোয়ারি করে স্কুল বন্ধ রাখার চেষ্টা করে। মানুষ বিজেপির আসল রূপ এদিন দেখেছেন। তার জবাবও দেবেন। 
পাল্টা খানাকুলের বিধায়ক বিজেপির সুশান্ত ঘোষ বলেন, তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আমাদের ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধ সফল হয়েছে। মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। যেসব স্কুলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে গিয়েছিল, সেগুলিকে আমরা বনধের আওতায় রাখিনি। বাকি কিছু জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখার প্রচার করা হয়েছিল। এদিন সকালে সেইসব স্কুলে গিয়ে কর্মীরা তা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। আমাদের এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, রবিবার সকালে তৃণমূলের বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে বলপাই এলাকায় বিজেপির সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। তুমুল ইটবৃষ্টি হয় দুইপক্ষের মধ্যে। ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিস কর্মী জখম হন। উভয়পক্ষের কর্মীরাও আহত হন বলে দাবি। পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি খানাকুলে ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকে। সেইমতো তার প্রচারও করা হয়। সোমবার খানাকুল থানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গাতেই দোকানপাট বন্ধ। তবে সোমবার রাজহাটি বাজার বন্ধই থাকে। ফলে এদিন সেখানে অন্যান্য সপ্তাহের মতোই পরিস্থিতি দেখা যায়। যদিও বন্দর বাজার বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। রামনগর, খানাকুল এলাকাতেও দোকানপাট বন্ধ ছিল। বিডিও অফিসে লোকজনের সংখ্যা কম ছিল। এছাড়া এদিন বিভিন্ন জায়গায় খেয়া পারাপারও বন্ধ থাকে। জানা গিয়েছে, বনধের সমর্থনে এদিন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে। মায়াপুর গড়েরঘাট রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলা হয়। টায়ার জ্বালিয়েও অবরোধ হয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুল, প্রতিষ্ঠান বিজেপির নেতারা জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিস যায়। তার জেরে অনেক জায়গাতেই স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। পড়ুয়ারাও অবশ্য অনেকে আসেনি। এদিন বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন অনেক যাত্রী। ব্যবসায়ীদের অনেকেই এদিন কলকাতায় বাজার করতে যান। তাঁরাও বিপাকে পড়েন। মায়াপুর থেকে ছোট গাড়িতে 
করে অনেকে যাতায়াতের চেষ্টা 
করেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ