নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: কৃষিকাজ করার জন্য হাট থেকে গোরু কিনে আনছিলেন কয়েকজন বৃদ্ধ চাষি। দুর্গাপুরের গ্যামনব্রিজে তাঁদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় সহ স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধদের হাত বেঁধে গলায় দড়ি দিয়ে কান ধরে হাঁটানো হয় রাস্তায়। সেই মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় গর্জে উঠেছিল দুর্গাপুর। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়ে যায় বিজেপি নেতাদের অসিহিষ্ণু কীর্তি। মূল অভিযুক্ত পারিজাতকে প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে খুঁজছিল পুলিস। অবশেষে ধানবাদ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে। পারিজাত-কাণ্ডে তোলপাড়েরপ মধ্যেই দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের একটি অশালীন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। দলীয় নেতারা একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় স্টিল সিটিতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়ছে গেরুয়া শিবির। ডিসি অভিষেক গুপ্তা বলেন, অভিযুক্ত পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়কে আমরা ধানবাদ থেকে গ্রেপ্তার করেছি।
৩১ জুলাই কোক ওভেন থানার গ্যামন ব্রিজের কাছে অমানবিক ঘটনা ঘটায় পারিজাতরা। গোরু নিয়ে আসার পথে দুর্গাপুর নিউটাউনশিপ থানার জেমুয়ার তিনজন বাসিন্দা সহ মোট সাতজনকে মারধর করা হয়। বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই একযোগে বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল, সিপিএম থেকে আইএসএফ। নির্যাতিতদের বাড়ি গিয়ে তাঁরা সমবেদনা জানিয়ে আসেন। দুর্গাপুরে ধিক্কার সভাও করে বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। পথে নামে নাগরিক সমাজও। গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির সাতজন নেতা ও কর্মীকে। যদিও মূল অভিযুক্ত পারিজাতকে পাওয়া যচ্ছিল না। জল অন্যদিকে গড়াচ্ছে দেখে বিজেপি পুলিসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলে। তারা দাবি করে, পুলিস দলীয় নেতাদের পাশাপাশি নেত্রীদের বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে। অত্যাচার চালাচ্ছে। এতদিন পর নাটকীয়ভাবে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে পারিজাত। এদিকে বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মুহূর্তে রয়েছেন লক্ষ্মণবাবু (ছবির সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। ছবিটি রীতিমতো ব্যথিত করে রুচিশীল দুর্গাপুরবাসীকে। যদিও পুরোটাই এআইয়ের কারসাজি বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিধায়ক।
বছর ঘুরলেই রাজ্যের ভোট। তার আগে স্টিলসিটিতে নেতাদের আচার-আচরণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিজেপির। দুর্গাপুরকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দাবি করে বিজেপি। ২০২১ সালেও শহরের দু’টি বিধানসভা আসনের মধ্যে একটিতে জয়লাভ করে অন্যটি অল্প ব্যবধানে হারে। এবার সেই জমি থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই অবশ্য বলেন, পারিজাত যে ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল, তা দল সমর্থন করে না। আবার পুলিসও যেভাবে বিজেপি নেতাদের বাড়িতে অত্যচার চালিয়েছে, সেটাও ঠিক নয়। এর জবাব মানুষ ইভিএমে দেবে।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, পারিজাতকে পুলিস গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উনি আত্মসমর্পণ করেছেন। এক্ষেত্রেও পুলিস ব্যার্থ। তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, মূল অভিযুক্তকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। বিজেপির স্বরূপ কয়েকদিনের মধ্যেই দুর্গাপুরবাসী জেনে গিয়েছে। বিধায়ককে বলব, একটু ভালোভাবে থাকুন।