সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: স্ত্রী উপপ্রধান। স্বামী চাইছিলেন প্রধান হন তিনি। সন্দেহ, দলেরই এক নেতার কলকাঠিতে স্ত্রীর প্রধান হওয়ার স্বপ্ন মাঠে মারা গেল। আর মনে পুষিয়ে রাখা সেই ক্ষোভ অবশেষে আছড়ে পড়ল। প্রথমে বাইকের চাবি ছিনিংয়ে নিয়ে হেনস্তা, পরে বাড়িতে গিয়ে আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটল। যা নিয়ে ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়িতে প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। আর এটা কিছুটা হলেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে পদ্ম শিবিরে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মলয় কাঠাম।
এক নেতাদের বিরুদ্ধে অপর নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জখম হয়েছেন এক পদ্মকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আমগুড়িতে। বিজেপির ময়নাগুড়ি উত্তর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক অতুলচন্দ্র রায় এনিয়ে উত্তর মণ্ডলের সম্পাদক জয়ন্ত রায়, সভাপতি সুভাষ রায় সহ সাতজনের নামে লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ, সেদিন দুপুরে আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপগড় পেট্রল পাম্পে অভিযুক্তরা অতুল রায়ের বাইকের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে বাইকটি রামশাই পুলিশ ক্যাম্পে জমা দেওয়া হয়। পরের দিন পুলিশ ক্যাম্প থেকে বাইকটি নিয়ে আসেন অতুল। অভিযোগ, ১ তারিখ রাতে অতুল রায়ের বাড়িতে লোহার রড, বাঁশ নিয়ে জয়ন্ত রায়, সুভাষ রায় সহ বেশ কয়েকজন চড়াও হন। ওই সময় অতুলের বাড়িতে আসা পঞ্চায়েতের সদস্যার স্বামী ধনেশ্বর রায়কে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জলপাইগুড়িতে স্থানান্তরিত করেন।
অতুল রায় বলেন, জয়ন্ত রায় চাইছিলেন তাঁর স্ত্রীকে প্রধান নির্বাচিত করা হোক। তাঁর স্ত্রী উপপ্রধান হওয়ার কারণে ক্ষোভে এই হামলা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, আমি নাকি তাঁর স্ত্রীকে প্রধান না করাতে কলকাঠি নাড়িয়েছি। মনে পুষে রাখা ক্ষোভ থেকেই আমার বাড়িতে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমাদের এক কর্মীকে মারধর করেছে।
এদিকে, জয়ন্ত রায় ও সুভাষ রায় দু’জনেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। জয়ন্তবাবুর দাবি, উনি মিথ্যা কথা বলছেন। সবটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। • জখম বিজেপি কর্মী। - নিজস্ব চিত্র।