নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ২০২১ সালের ২ মে দুপুরে নারকেলডাঙায় বাড়ির কাছেই বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার নৃশংসভাবে খুন হন। ওই ঘটনায় নারকেলডাঙার তৎকালীন ওসি শুভজিৎ সেন ও তদন্তকারী পুলিস অফিসার রত্না সরকারসহ চারজনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। শুভজিৎবাবু পরে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। আর রত্নাদেবী হলেন কলকাতা পুলিসের উত্তর বিভাগের একজন ইনসপেক্টর। শুক্রবার কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ আদালতের বিচারক রোহন সিনহা তাঁদের ব্যাপারে এই আদেশ দিয়েছেন।
অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথ এবং এক গৃহবধূ মান্তা দে। বাকি দশ অভিযুক্তকে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। এদিন এই মামলার শুনানি চলাকালে বিচারক উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘রক্ষকই যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, এর থেকে দুঃখের আর কী থাকতে পারে!’ দুই পুলিস কর্তার জেল হেফাজত হয়েছে, এই খবর চাউর হতেই কলকাতা পুলিস মহলে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়। ঘন ঘন খোঁজখবর নেওয়া হয় পুলিস মহল থেকে।
এই খুনের মামলায় সিবিআই সম্প্রতি ১৮ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে। সেই তালিকায় ছিলেন অভিযুক্ত বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলার, দুই পুলিস অফিসারসহ অন্য অভিযুক্তরা। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ হওয়ার পর বিচারক অভিযুক্তদের এদিন কোর্টে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। তারই প্রেক্ষিতে এদিন অভিযুক্ত ১৪ জন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আর্জি জানান। কিন্তু সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি জানানো হয়। আদালতে ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই খুনের মামলার তদন্তে ওই দুই পুলিস আধিকারিকের একাধিক গাফিলতি ছিল। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল তদন্ত। যদিও অভিযুক্ত পুলিসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই খুনের মামলার তদন্ত আইন মেনেই করা হয়েছে। সেখানে গাফিলতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাই যেকোনও শর্তে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হোক।