নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিপিএমের রক্তক্ষরণ অব্যাহত! সংগঠনে যেভাবে ধস নেমেছে, তার প্রেক্ষিতেই লালপার্টির বিরুদ্ধে ওই মন্তব্য। কিন্তু এখন ওরা বিধানসভা এবং লোকসভায় শূন্য। সেই প্রেক্ষাপটেই নিশানায় এবার গেরুয়া পার্টি। তাতে সিপিএমের মতোই অবস্থা বিজেপির। গেরুয়া সংগঠনে ফাটল প্রতিদিন যেভাবে চওড়া হচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের কাছে।
গত নির্বাচনে বাংলায় ‘২০০ পার’ আওয়াজ তুলেছিল বিজেপি। তবে ফলাফলে তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি তারা। বিজেপির মাত্র ৭৭-এর জবাবে ২১৫ তোলে তৃণমূল। তারপর থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ কমছে। সর্বশেষ উদাহরণ হলদিয়ার তাপসী মণ্ডল তৃণমূলে যোগদান। বিধানসভায় বিজেপির শক্তি এখন ৬৫, বিপরীতে তৃণমূল ২২০ (সরকারিভাবে)। ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূলে অন্যদিকে আছেন ‘দলবদলু’ পাঁচ বিজেপি বিধায়ক—মুকুল রায়, তন্ময় ঘোষ, সুমন কাঞ্জিলাল, হরকালী পতিহার এবং তাপসী মণ্ডল। এছাড়া ইতিমধ্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস। ফলে তৃণমূলের সরকারিভাবে এবং দলবদলু মিলিয়ে বিধায়ক সংখ্যা এখন ২২৬! ওইসঙ্গে নির্দল বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা তৃণমূলের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন।
দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আস্থা বাড়ছে রোজই। অন্যদিকে ক্রমে ক্ষীণতনু হচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের দাবি, বিধানসভায় তারা আরও দলে-ভারী হবে। তাদের চ্যালেঞ্জ, ছাব্বিশের ভোটের পর ‘বিরোধী দল’ তকমাও খোয়াবে মোদির পার্টি। যদিও পাল্টা দাবি বিজেপির, স্বচ্ছ ভোট হলে তৃণমূলের কপালেই বরং দুঃখ আছে!