নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এ যেন ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রিমেক। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মিস কল দিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেছিল। এবারও একই ফর্মুলা। এবার এগিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের যুব সংগঠনকে। যুব মোর্চার উদ্যোগে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘নমো যুব ওয়ারিয়ার্স’। বিভিন্ন মণ্ডলে মিছিল মিটিং করে প্রচার করছে যুব মোর্চার নেতারা। একটি নির্দিষ্ট নম্বরে মিস কল দিলেই মোবাইলে লিংক আসবে। ফর্ম ফিল আপ করলেই হয়ে যাওয়া যায় নমো যুব ওয়ারিয়ার্স বা নমো যুব যোদ্ধার সদস্য। যুব সমাজকে টানতে দেওয়া হচ্ছে চাকরি ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও। রাজ্য থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। তা পূরণ করাই চ্যালেঞ্জ যুব মোর্চার নেতাদের।
বিজেপি যুব মোর্চার নেতা অভিক মণ্ডল, বাবন মণ্ডলরা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে চাকরি নেই। নতুন শিল্প আসছে না ব্যবসা বাণিজ্য করার জায়গাও সীমিত। হতাশ যুব সমাজকে অনুরোধ করা হচ্ছে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে। সরকারের বদল হলে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা আসবে রাজ্যে। নতুন প্রজন্মকে আমরা তা বোঝাচ্ছি।
জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বর সহ বিভিন্ন এলাকাতেই এই কর্মসূচি নিয়ে মিছিল ও মিটিং করতে দেখা গিয়েছে তাদের। বিজেপি যুব নেতাদের এই কর্মসংস্থান ফেরি করাকে কটাক্ষ করেছে সিপিএম ও তৃণমূল। তাঁদের দাবি, এই সব ভোটের গিমিক বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন। অনেকেই এই প্রসঙ্গে মোদিজির প্রতি বছর দু’ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা মনে করিয়েছেন।
তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থ দেওয়াসি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপি ঘটা করে মিস কল দিয়ে সদস্য সংগ্রহ, যোগদান মেলা করেছিল। কোনও লাভ হয়নি। আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। আমাদের যুব সংগঠন রক্তদান শিবির, খেলাধুলোর আয়োজন করে জনসংযোগ করি। ভোটের আগে ভাঁওতা দিই না।
ডিওয়াইএফের জেলা সভাপতি ভিক্টর আচার্য বলেন, যুব সমাজ হতাশ রাজ্য ও কেন্দ্র দু’টি সরকারের জন্যই। কোনও কমসংস্থান নেই। যুব সমাজ ভুলে যায়নি ২ কোটি চাকরি দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। যুব মোর্চার এই কর্মসূচি যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা সব বোঝে। পাঁচ বছর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। দশ বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রের ক্ষমতায়। তারপরও যে গ্রাম বাংলায় বিজেপি সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি হয়নি বুঝে গিয়েছেন দিল্লির নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়েই ২০২১ সালে যে সব ফর্মুলাগুলি ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলি নতুন করে প্রয়োগ শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। তারই অঙ্গ হিসাবে বিজেপি এই নমো যুব ওয়ারিয়ার্স তৈরির উদ্যোগ। বিজেপি নেতারা মনে করছে, চাকরির বেনিয়ম, নিয়োগ না হওয়ার জেরে যুব সমাজ ক্ষুব্ধ। ডবল ইঞ্জিনের সরকার, চাকরির স্বপ্ন দেখালে তারা সহজেই আকর্ষিত হবে। আসানসোল সাংগঠনিক জেলায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। বিহার নির্বাচনের পর সেই টার্গেট কয়েকগুণ বেড়েছে।