Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘প্রয়োজন মিটলে ছুড়ে ফেলে দেয় বিজেপি’, ক্ষুব্ধ আদিবাসী শিক্ষক নেতা

এরাজ্যে আদিবাসী ভোটের জন্যই একসময় বিজেপি সাফল্যের মুখ দেখেছিল

‘প্রয়োজন মিটলে ছুড়ে ফেলে দেয় বিজেপি’, ক্ষুব্ধ আদিবাসী শিক্ষক নেতা
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এরাজ্যে আদিবাসী ভোটের জন্যই একসময় বিজেপি সাফল্যের মুখ দেখেছিল। জঙ্গলমহল এলাকা হিসেবে পরিচিত ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া বা বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে তারা সাফল্য পেয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনে অবশ্য আদিবাসীরা ভুল বুঝতে পারেন। যেমনটা দেরিতে হলেও বুঝেছেন বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য সুনীল মুর্মু। তিনি জেলা কমিটি থেকে অবশ্য সদ্য প্রাক্তন হয়েছেন। তিনদিন আগে জেলা কমিটির নতুন নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে সুনীলবাবুর নাম নেই। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট– ‘বর্ধমান জেলা বিজেপিতে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে’। আর ফোনে বলছেন, প্রয়োজন মিটে গেলে বিজেপি আর কাউকে মনে রাখে না।  বিষয়টি নেতৃত্বকে জানিয়েছি। সবাই বলছেন, দেখছি।

Advertisement

বিজেপির আদি নেতা হিসেবে পরিচিত কেশব কোনার বলেন, দলের এই আচরণ পুরনো। প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পর ওরা ছুড়ে ফেলতে সময় নেয় না। সেই কারণেই দলটা এগচ্ছে না। সুনীল বহু পুরনো নেতা। তিনি শিক্ষকও। এক সময় এই সমস্ত নেতাদের সামনে রেখেই দল ভোট টেনেছিল। সেই ভোটব্যাঙ্ক আর নেই। লোকসভা নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে এখন দলে আর সুনীলদের দরকার হচ্ছে না।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে বিজেপি জেলা কমিটি ঘোষণা করে। এগজিকিউটিভ সদস্য সহ ৫৯জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সহ সভাপতি করা হয়েছে আটজনকে। সম্পাদক পদে আটজন বসেছেন। লম্বা এই তালিকায় সুনীলবাবুর ঠাঁই হয়নি। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই দল করছি। নেতৃত্ব কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বুঝতে পারছি না।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলায় নিজেদের মধ্যে কোন্দল বহুদিন ধরেই তুঙ্গে রয়েছে। তা একাধিকবার প্রকাশ্যেও এসেছে। রাজ্য নেতৃত্ব একাধিকবার হস্তক্ষেপ করার পরও সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। কয়েকদিন আগেও বিজেপির জেলাসভাপতি বদল চেয়ে শহরে পোস্টার পড়ে। কয়েকদিন আগে দলের তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী জেলায় বৈঠক করতে আসেন। তাঁর সামনেও দলের অনেকেই ক্ষোভ উগরে দেন। কাজের লোক নয়, কাছের লোকজনদের সংগঠনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। পুরনোদের অভিযোগ, কাজের লোকজনদের গুরুত্ব না দিলে সংগঠন এগতে পারবে না। লোকসভা নির্বাচনে সংগঠন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রটিও বিজেপি ধরে রাখতে পারেনি। এরকম চলতে থাকলে বিধানসভা নির্বাচনেও দল সাফল্যের মুখ দেখবে না বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, কেন সুনীলবাবুকে জেলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হল, জানি না। তবে তিনি পুরনো সৈনিক। আগামী দিনেও দলের জন্য কাজ করে যাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ