নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশের আগে শনিবারই দিল্লি পুলিশের সদর কার্যালয়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও। এবার বিরোধী তথা জেন জি’দের লাগাতার প্রতিবাদ আন্দোলনের পালটা কী কৌশল নেওয়া যায়, তা স্থির করতে রবিবার দিল্লিতে জরুরি বৈঠক করল বিজেপি। এদিন দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে দলের সদর কার্যালয়ের বৈঠকে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ ছাড়াও হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। রবিবার বিজেপির সদর কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ এই বৈঠক হয়। একে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। কারণ প্রশ্ন উঠছে, মোদি বিরোধী বিক্ষোভ যেভাবে ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে কি ক্রমশ আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছে পদ্মশিবিরের অন্দরে? প্রধানত সেই কারণেই পরপর দু’দিন একই ইস্যুতে দু’টো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে হচ্ছে স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। একটি সরকারি স্তরে, অন্যটি সাংগঠনিক বৃত্তের মধ্যে।
এই ইস্যুতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরেও। প্রকাশ্যে অবশ্য বিজেপি জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠক মূলত আগামী বছরের ভোটমুখী রাজ্যগুলির দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে বিজেপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে, রবিবারের বৈঠকে শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই ব্যাপারেই খোঁজখবর নিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রবিবারের বৈঠকে বিজেপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডাই ছিল বিরোধী দলগুলির আন্দোলন কর্মসূচির মোকাবিলার লক্ষ্যে কৌশল তৈরি করা।
কারণ পদ্মপার্টির শীর্ষ নেতাদের বড়ো অংশই মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় প্রতিবাদ আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবিলম্বে তার পালটা কর্মসূচি গ্রহণ করতে না পারলে আখেরে বিজেপিকে বড়োসড়ো মূল্য চোকাতে হবে। কারণ আর মাত্র তিন বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলি এবং জেন জি’দের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। নাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমাগত ভুল বার্তা যেতে থাকবে। এমনই মনে করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা যাচ্ছে, রবিবার বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত বিরোধীদের পালটা কর্মসূচি হবে সারা দেশেই। ইতিমধ্যে অবশ্য এক দফায় দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাকজতা দূর করো’ কর্মসূচিতে পথে নেমেছিল বিজেপি। যদিও তাতে সেভাবে সাড়া মেলেনি বলেই দলের অন্দরের মত। তাকে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের প্রত্যেক জেলা সদরে কমপক্ষে ১০ হাজার লোকের জমায়েত করিয়ে মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।



