নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভোটার লিস্টে এক বিজেপি সমর্থকের দু’ বার নাম পাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিয়ারার ১৩১ নম্বর বুথে। তবে দুটি নাম এক হলেও পদবি আলাদা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই এলাকায় বহু মৃত ব্যক্তির নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কথায়, ভুয়ো ভোটারদের ব্যবহার করতে পারে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি সমর্থকের নাম ভোটার লিস্টে দু’ জায়গায় থাকলেও কাটার ব্যবস্থা করেনি।
এদিন মালিয়ারার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য জয়প্রকাশ সাউ বলেন, এসব বিজেপির চক্রান্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশন তো কেন্দ্রের হাতে। কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে। এই ভুয়ো ভোটারদের ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিয়ারার ১৩১ নম্বর বুথ এলাকায় বাড়ি রবীন্দ্রনাথ মাহালির। যিনি বিজেপি সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আর সেই বাড়ির নম্বরেই ভোটার কার্ড হয়েছে রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর। অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ অধিকারী নামটাই ভুয়ো। এই নামে এই এলাকায় কোনও ভোটার নেই। কিন্তু ভোটার তালিকায় সেই নাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে জঙ্গলমহলের এই জেলাজুড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তার সবচেয়ে বড় কারণ, সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের পক্ষেই রায় দেন সাধারণ মানুষ। এই পঞ্চায়েত এলাকায় ২০টি সংসদের মধ্যে ১৪টি যায় তৃণমূলের দখলে। এছাড়া ৫টি সংসদ যায় নির্দলদের দখলে। আর মাত্র ১টি সংসদ দখল করে বিজেপি। তবে তৃণমূলের জয়ের পিছনে ভুয়ো ভোটার রয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ভুয়ো ভোটাররাই তৃণমূলের সম্পদ। প্রতিবছর ভোটের সময় মৃত ভোটাররা ভোট দেয়। তাতেই তৃণমূলের জয়জয়কার। আগামী নির্বাচনে আমরা এটা হতে দেব না।