Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাদার অনুষ্ঠানে টিপ্পনি, নন্দীগ্রামে তিনজন বিজেপি নেতাকে শোকজ

নন্দীগ্রামে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে  এবার কাউন্টার পাঞ্চ করল নেতৃত্ব।

দাদার অনুষ্ঠানে টিপ্পনি, নন্দীগ্রামে তিনজন বিজেপি নেতাকে শোকজ
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দীগ্রামে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে  এবার কাউন্টার পাঞ্চ করল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার রেয়াপাড়া পাওয়ার হাউস মাঠে দাদার সামনেই জেলা সহ সভাপতিকে নিয়ে বিদ্রোহের ঘটনায় তিন নেতাকে শোকজ করলেন জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা। ২২ জানুয়ারি রাতেই জেলা সভাপতি শোকজ চিঠি ইস্যু করে দেন। তিন দিনের মধ্যে জবাব না দিলে তিনজনের বিরুদ্ধেই দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় নন্দীগ্রামে হইচই পড়ে গিয়েছে। শোকজের মুখে পড়া তিন বিজেপি নেতা হলেন, মঙ্গলচক গ্রামের গুরুপদ সাউ, বয়ালের রাধাকান্ত দাস ও মহাগ্রামের পার্থ মাইতি।

Advertisement

বয়াল-১গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি নেতা পবিত্র করকে নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত। বেশকিছু দিন ধরেই ওই নেতাকে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন চলছে। দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে বিশেষ দেখা যাচ্ছিল না। বয়ালে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কার্যালয় বানানোর ঘটনাও দলের কর্মীদের একটা বড় অংশ ভালোভাবে নেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর গোপন আঁতাত রয়েছে বলে খবর চাউর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রকাশ্য বড় মঞ্চে দেখা যায়। অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে পবিত্র কর মঞ্চে ওঠে পড়েন। তখনই তাঁকে নিয়ে টিপ্পনি কাটা শুরু হয়। মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার ফতোয়া দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে আশঙ্কা করে মঞ্চ ত্যাগ করেন দাদা। সেই মঞ্চে ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহাও।

নেতৃত্বের সামনে পবিত্র করকে নিয়ে এমন ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েন বিজেপি নেতারা। এরপরই ওই ঘটনায় জড়িত থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা সভাপতি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে তিনজনকে শোকজ করেন। তিন দিনের ম঩ধ্যে জবাবদিহি চাওয়া হয়। তিন নেতাকেই পাঠানো শোকজ চিঠির বয়ান একই। তাতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন পার্টির কাজকর্মে যুক্ত না থেকে দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকায় ও দলীয় নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে হুমকি ও হেয় প্রতিপন্ন করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। আপনাকে এরকম দলবিরোধী কাজে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলেও আপনি কর্ণপাত করেননি। দলবিরোধী কাজে থেকে দলের ভাবমূর্তি সমানে নষ্ট করছেন। সেজন্য আপনাকে শোকজ করা হল। তিন দিনের মধ্যে যথাযোগ্য উত্তর না দিলে আপনার বিরুদ্ধে দলবিরোধীতার অভিযোগে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকিবে।’—মলয় সিনহা, জেলা বিজেপি সভাপতি।

তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পর থেকেই নন্দীগ্রামে একের পর এক ঘটনায় বিজেপি প্রবল অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। সোনাচূড়া ও কালীচরণপুরে দলেরই প্রচার মাইক আটকে মাইক ও ফ্লেক্স খুলে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। দলের পঞ্চায়েত সদস্য, মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতির এহেন কর্মকাণ্ডে দলের ভিতর প্রবল ঝামেলা শুরু হয়েছে। তারআগে গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলকুণ্ডু বুথে দলেরই বুথ সভাপতিকে মেরে রক্তাক্ত করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চায়েত সমিতির দলেরই কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সাহেব দাস ও প্রাক্তন বুথ সভাপতি রামপদ দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। নন্দীগ্রামে নিজেদের মধ্যে ঝামেলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রেয়াপাড়ায় প্রকাশ্য মঞ্চে পবিত্র করকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের বিদ্রোহ উপস্থিত নেতৃত্বকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছে।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, পবিত্র করকে কটূক্তি ও টিপ্পনি কাটার ঘটনায় তিনজনকে শোকজ করেছে দল। এধরনের ঘটনা কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ