ব্রতীন দাস • জলপাইগুড়ি: নজরে ছাব্বিশের ভোট। আর সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে জলপাইগুড়িতে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দেওয়াল লেখা হয়। জলপাইগুড়ি শহরের পাশাপাশি ধূপগুড়িতেও এদিন ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’ স্লোগানে দেওয়াল লেখা শুরু করেন পদ্ম পার্টির কর্মীরা। যদিও বিজেপিকে ‘মানুষ মারা’র দল বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। তাঁর তোপ, এদিনও শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ফুলবাড়ি এলাকায় এসআইআর আতঙ্কে একজন আত্মঘাতী হয়েছেন। শুধুমাত্র জলপাইগুড়ি জেলায় এসআইআর ইস্যুতে একজন বিএলও সহ পাঁচজন আত্মঘাতী হতে বাধ্য হলেন। এসআইআরের নামে মানুষ মারার চক্রান্ত করে এখন গেরুয়া শিবির ‘বাঁচতে গেলে বিজেপি’ স্লোগান দিয়ে দেওয়াল লিখছে। এসআইআর বাংলায় বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে গেরুয়া শিবির একটি ভোটও পাবে না।
তৃণমূলের কটাক্ষকে অবশ্য পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপি। দলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের কটাক্ষ, তৃণমূল এখন এসআইআর জ্বরে ভুগছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা মিডিয়া সেলের ইনচার্জ জীবেশ দাস বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি মণ্ডলে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি মণ্ডলে আমরা একশোটি করে দেওয়াল লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় পার্টির ঝান্ডা লাগানো হচ্ছে। মিটিং, মিছিল হচ্ছে।
রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় বলেন, উন্নয়নকে হাতিয়ার করে আমরা ছাব্বিশের ভোটে মানুষের কাছে যাব। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপির এমপি রয়েছেন। একাধিক বিধায়ক রয়েছেন। তাঁরা মানুষের জন্য করেছেন, এমন একটি কাজও কি দেখাতে পারবেন?
রাজ্যের শাসকদলের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারে সভা করে যাওয়ার পর আরও ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে বিজেপি। অভিষেকের সভার পরই চা শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য নিখরচায় বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। চা শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা করার আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চা বাগানের শ্রমিকরা পাট্টা পেয়েছেন। চা সুন্দরীর ঘর মিলেছে। চা বাগানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্রেশ, পানীয়জল সবই হয়েছে। বিনামূল্যে রেশন মিলছে। রাজ্যের ঢালাও উন্নয়নের জেরে চা বলয়ে পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে বিজেপি। নিজেদের দেওয়াল লিখন পড়তে পেরেই ওরা তড়িঘড়ি দেওয়াল লিখতে নেমে পড়েছে।
তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের তোপ, এসআইআরের নামে যেভাবে জলপাইগুড়ি উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র বয়স্ক, দৃষ্টিহীন, পঙ্গু এমনকী অসুস্থদেরও শুনানি কেন্দ্রে টেনে নিয়ে আসা হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তাঁদের চরম দুর্ভোগে ফেলা হচ্ছে, ভোটবাক্সে তার জবাব দেবেন সাধারণ মানুষ। তাঁর চ্যালেঞ্জ, বিজেপি যে দেওয়াল লিখন শুরু করেছে, ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর সেই দেওয়ালে তাদের পরাজয়ের কাহিনি নিজেদেরই লিখতে হবে। গেরুয়া শিবিরের মিথ্যাচারের জবাব দেওয়ার জন্য জলপাইগুড়িবাসী তৈরি। • নিজস্ব চিত্র।