সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাংলার নেগেটিভ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই হবে। তারজন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানিয়ে তা ছড়াতে হবে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতের জন্য ভিনরাজ্যের আইটি কর্মী নিয়োগ করছে বিজেপি। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ত্রিপুরা, বিহার, ছত্তিশগড় এবং দিল্লি থেকে আইটি কর্মীরা আসবেন। তাঁরা বিজেপির স্থানীয় কর্মী বা নেতাদের সঙ্গে ঘুরে রিলস তৈরি করবেন। ‘পজেটিভ’কে ‘নেগেটিভ’ বানানোর জন্য দক্ষ আইটি কর্মীদের মাঠে নামানো হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তাঁরা রাজ্যে চলে আসবেন। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা আলাদা ‘পেজ’ তৈরি করবেন। তবে, সরাসরি বিজেপির নাম বা প্রতীক ব্যবহার করে পেজ তৈরি হবে না। এক ঝলক দেখে মনে হবে, কোনো পোর্টাল বা সংবাদ সংস্থা এই কাজ করছে। এলাকার বাসিন্দাদের মগজ ধোলাই করার জন্য এই পন্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তন্ময় সিংহরায় বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য ছড়ানো বিজেপির পুরনো কৌশল। তারা বাংলাদেশের ঘটনাকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার হিংসা বলে প্রচার করে। মানুষ ওদের মিথ্যাচার বুঝে গিয়েছে। ওদের কোনো পোস্ট মানুষ বিশ্বাস করে না।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ার পেজগুলি রাজ্য থেকেই পরিচালিত হতো। প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা পেজ থাকলেও সেগুলির ‘অ্যাডমিন’ ছিলেন রাজ্যের কোনো না কোনো নেতা। এর আগে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় তেমনটা হলে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন অনেকে। দলের এক নেতা বলেন, আইটি কর্মীরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে অনুন্নয়নের ছবি তুলে ধরবে। এছাড়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে কোনো সম্প্রদায়ের কত মানুষ রয়েছে, তাঁদের জন্য কী কী করা হয়েছে, সেসব কিছু তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরবেন। এর আগের নির্বাচনগুলিতে জেলার কর্মীরা নেতাদের ছবি বা সভার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতেন। সেসব কিছু তো হবেই। পাশাপাশি এলাকা ভিত্তিক সমস্যা রিলসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। এসটি, এসটি বা মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে গিয়েও তারা রিলস বানাবে।
বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্যের সাধারণ সম্পাদিকা মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, কী কৌশলে ভোট হবে, তা ঠিক করার অধিকার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের রয়েছে। সেরকম ভাবে আমাদেরও কিছু স্ট্র্যাটেজি রয়েছে। তাতে অন্যায়ের কী আছে? যেসব এলাকায় উন্নয়ন হয়নি, সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ার আপলাড হলে দোষ কী? সবাই বাস্তবটা দেখতে পাবে।