Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রধানের স্বামীকে মারধর, বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ ধৃত ৪

মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় দলীয় প্রধানের স্বামীকে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিজেপির খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্কর মাইতি ও তাঁর তিন সাগরেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রধানের স্বামীকে মারধর, বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ ধৃত ৪
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় দলীয় প্রধানের স্বামীকে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিজেপির খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্কর মাইতি ও তাঁর তিন সাগরেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রতিদিনই রাতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্করের উপস্থিতিতে মদের আসর বসত। চলত হৈ-হল্লা। বিজেপি পরিচালিত নিজকসবা পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমী মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে খেজুরির তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার পুলিশ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্কর মাইতিকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় সুভাষ মণ্ডল, তপন প্রামাণিক ও সূর্যকান্ত দাস নামে আরও তিনজনকে ধরেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর, খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পবিত্র দাস বলেন, বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।  

Advertisement

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই একজন বৃহন্নলা সহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগে নিজকসবা পঞ্চায়েতেরই বিজেপির উপ প্রধান তারাপদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবার  দলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গ্রেফতার হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শনিবার ধৃতদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও দু’জনকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজত এবং একজনকে ১৪দিন জেল হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 
অভিযোগ, খেজুরির আলিপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে প্রতিদিন  মদের আসর বসায় উদয়শঙ্কর। রাত হলেই সেখানে তার শাগরেদরা হাজির হতো। গভীর রাত পর্যন্ত চিৎকার-চেঁচামেচি হতো। এর প্রতিবাদ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমীদেবী তাঁর স্বামী  শুকদেব মণ্ডল। গত ২৯ অক্টোবর আলিপুর বাজার থেকে ফেরার পথে শুকদেববাবুকে বেধড়ক মারধর করে উদয়শঙ্কর ও তার দলবল।  আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মারধরে জখম শুকদেববাবু চিকিৎসা করান। 
এই ঘটনার পরই ওই পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমীদেবী থানায় তাঁর স্বামীকে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন। ওইদিনই বিজেপির এক কর্মী সৌরভ সরকারের উপরও সূর্যকান্ত হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সূর্যকান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে বিজেপি। তবে বোর্ড গঠনের আগে বিজেপি থেকে জয়ী উদয়শঙ্কর আর এক সদস্যা পিপাসা দাস তৃণমূলে যোগদান করেন। সভাপতি পদে বসে উদয়শঙ্কর। যদিও পরবর্তীকালে বিজেপিতেই ফিরে যান উদয়শঙ্কর।
মৌসুমীদেবী বলেন, স্বামীকে মারধরের ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সবসময় দলবিরোধী কাজ করেন। কাউকে মানেন না। তাঁর জন্য এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। 
ব্লক তৃণমূল সভাপতি সমুদ্ভব দাস বলেন, বিজেপির দুই গোষ্ঠীর গণ্ডগোলের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। দলীয় প্রধানের অভিযোগেই বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গ্রেফতার হয়েছেন। তালপাটিঘাট থানার ওসি কাজল বর্মন বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ