Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাংলার বাড়ি’র প্রশংসা পদ্মের পঞ্চায়েত সদস্যের

শালবনী ব্লকের বাঁকিবাঁধ পঞ্চায়েতে এবার ১৪০০পরিবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে মাথার উপর ছাদ পেতে চলেছে। এখবরে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য উচ্ছ্বসিত।

‘বাংলার বাড়ি’র প্রশংসা পদ্মের পঞ্চায়েত সদস্যের
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: শালবনী ব্লকের বাঁকিবাঁধ পঞ্চায়েতে এবার ১৪০০পরিবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে মাথার উপর ছাদ পেতে চলেছে। এখবরে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য উচ্ছ্বসিত। সেইসঙ্গে খুশি হয়েছেন পদ্মের পঞ্চায়েত সদস্য পাপিয়া মণ্ডলও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য একটি অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। যদিও ‘বর্তমান পত্রিকা’ সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে যেমন চর্চা চলছে, তেমনি গেরুয়া শিবিরের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এলাকায় নিজেদের ভোট ধরে রাখতে কী করা যায়, সেই চিন্তাই করছে পদ্মশিবির।

Advertisement

শালবনী ব্লকের বাঁকিবাঁধ পঞ্চায়েতে ১৯টি আসন রয়েছে। ২০২৩সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানকার ১৯টির মধ্যে ১১টি আসনে তৃণমূল জয়ী হয়। ছ’টি আসনে নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হন। বাকি দু’টি আসন বিজেপির দখলে গিয়েছিল। তার মধ্যে শালডহরা থেকে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া মণ্ডল জয়ী হন। পাপিয়াদেবী বলেন, বাড়ি তৈরি হলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। এটাই বড়ো কথা। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে কাজ করছি। সহযোগিতা পাই। আমার এলাকার ৮৬জন বাড়ি পাচ্ছেন।

যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ বলেন, শুধু বিজেপি কেন? সিপিএম সহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা খুশি হয়েছেন। কারণ এই প্রকল্পের সুবিধা সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পাচ্ছেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কোনো ভেদাভেদ করেননি। প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় যাতে সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রথম ধাপে ১লক্ষ ২হাজার মানুষ বাড়ি পেয়েছেন। এবার দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রাজ্যের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক বাড়ি তৈরি হবে। প্রায় ১লক্ষ ৮০হাজার পরিবার বাড়ি পেতে চলেছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের বহু মানুষ বাড়ি পেতে চলায় এখন আনন্দে আত্মহারা।

দ্বিতীয় ধাপে শুধু কেশপুর ব্লকে ১৫হাজার, ডেবরা ব্লকে ১০হাজার, কেশপুর ব্লকে ১৫হাজার, মেদিনীপুর সদর ব্লকে ৯হাজার, সবং ব্লকে ১৬হাজার ও ঘাটাল ব্লকে পাঁচহাজার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। গ্রামবাসীরা জানান, প্রথম ধাপে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মনিটরিং হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি জেলার জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখছেন।

এদিন বাঁকিবাঁধ পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য তাপস মাহাত ও সুশান্ত মাহাত বলেন, বাড়ি পেয়ে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এতে আমরা সবাই খুশি। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরূপ দাস অবশ্য বলেন, সবই কেন্দ্রের থেকে টাকা নিয়ে হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের নামে আবার তৃণমূল নেতারা কাটমানি নেবে।

জবাবে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ি তৈরির জন্য এক টাকাও দিচ্ছে না। এটা বিজেপির নেতাকর্মীরা ভালো করেই জানে। মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। উন্নয়নই শেষ কথা বলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ