সংবাদদাতা, লালবাগ: যে সমস্ত হিন্দু মানুষ ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে এসেছেন, এখানে বাস করছেন এবং কাউকে ধরে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য সিএএর মধ্য দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। মানুষজন যাতে বিভ্রান্তির মধ্যে না পড়েন, অহেতুক ভুল জায়গায় না যান, তারজন্য মুর্শিদাবাদ জেলা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সিএএ ক্যাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তিনি আরও বলেন, ২০০২ সালের পর যাঁরা এসেছেন, তাঁরা এই ক্যাম্পে এসে সিএএ’র আবেদনের মধ্য দিয়ে নাম তুলতে পারবেন। সেই কারণে সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে বাংলার মানুষকে এটাই বলতে চেয়েছি সিএএ’র সময়ে, ওয়াকফ আইনের সময় তৃণমূল উস্কানি দিয়ে অশান্তি করেছে, আগুন জ্বালিয়েছে।
সিএএ ক্যাম্প নিয়ে বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, বিজেপির রাজ্য নেতারা টিভিতে বসে বলছেন এসআইআর হল ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনও সম্পর্ক নেই। তাহলে নাগরিকত্বের দোকান(ক্যাম্প) কেন খুলেছে? দোকান খোলার মধ্য দিয়ে তারা(বিজেপি) প্রমাণ করে দিচ্ছে আগামিদিনে এর মধ্যে দিয়ে শুধু মুর্শিদাবাদে নয়, সারা বাংলায় বেশ কিছু মানুষকে ওপারে(বাংলাদেশে) যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। ওরা সিএএ’র ফাঁদ পেতেছে। ফাঁদ পেতে দরখাস্ত করিয়ে আপনাকে স্বীকার করাবে আপনি বিদেশি। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সব বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় তুলতে হবে। যতক্ষণ না হবে ততক্ষণ তিনি এসআইআর ফর্ম পূরণ করবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। ফর্ম ফিলআপ করার জন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। নিজেকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই। আসলে এসআইআরের নামে এনআরসি করাতে চাইছে বিজেপি। হিন্দুদের প্রতি বিজেপির যদি এতই দরদ তাহলে অসমে ১২ লক্ষ হিন্দু ‘ডি’ ভোটার হয়ে আছে কেন?