নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলা বললেই বাংলাদেশি—এমন তকমা দেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অঘোষিতভাবে চলছে বাঙালি খেদাও অভিযান। তা নিয়ে উত্তাল বাংলার রাজনীতি। গর্জন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রবল ব্যাকফুটে বিজেপি। এমনকী বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত গেরুয়া নেতৃত্বই। এরই মধ্যে ভোলবদল যোগী আদিত্যনাথের। সোমবার উত্তরপ্রদেশে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ঘোষণা করা হয়েছে, পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আর অনুপ্রবেশকারী কিংবা অনাগরিক তকমা দেবে না যোগী সরকার। বরং ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং উত্তরপ্রদেশে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন, এবার তাঁদের জমিবাড়ির অধিকার দেওয়া হবে। তাঁরা পাবেন জমিবাড়ির দলিল ও পাট্টা। একথা ঘোষণার পাশাপাশি যোগী আদিত্যনাথ এদিন স্পষ্ট বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙালিদের সম্মানের জীবন উপহার দেওয়া হবে। এতদিন এই কাজটি করা যায়নি। এবার সেই ভুল সংশোধন করা হবে।’
বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি দেখলেই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার এক উৎসব শুরু হয়েছে। কোথাও জেলে পাঠানো হচ্ছে, কোথাও রাখা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, ‘বাঙালি খেদাও অভিযানের পরিণতি বিজেপিকে ভুগতে হবে। বাঙালি এবং বাংলাকে অপমান করা আপনাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মমতা সম্প্রতি এও অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার গোপনে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে যে, যারাই কোনও আবেদনপত্রে বাংলায় লিখবে কিংবা কথা বলবে, তাদের চিহ্নিতকরণ করতে হবে। এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রবল রোষ তৈরি হয়েছে জনমনেও। আর ঠিক এই আবহে যোগী আদিত্যনাথের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ।
সেই ছয় ও সাতের দশকে বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের রামপুর, বিজনৌর, লখিমপুর খেড়ি, পিলিভিটে। একইভাবে আবার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা কর্মসূত্রে বহু কাল ধরে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কই নেই। কিন্তু উভয় পক্ষকেই বিভিন্ন সময় একই সুরে হেনস্তা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও বৈধ জমিবাড়ির কাগজপত্র ও নথি প্রদান করা হয়নি তাদের। এবার বাংলায় প্রতিবাদের আগুন তীব্র হতেই যোগী আদিত্যনাথের এই নয়া সিদ্ধান্ত কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিএএ-রও পার্থক্য আছে। কারণ, উত্তরপ্রদেশ সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়কালের কথা বলেনি। কিন্তু সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী ২০১৪ সালের আগে যারা এসেছে, তারাই আবেদন করলে বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। তার পরে যারা এসেছে, তারা নয়!