নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপির নয়া জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও জিইয়ে থাকল দলীয় কোন্দল। দলের ‘বিক্ষুব্ধ’ নেতা অলোক চক্রবর্তী সোমবার ফুলের তোড়া হাতে কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে জেলা কার্যালয়ে এলেও তাঁকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা তিনি বাইরে অপেক্ষা করেন। অলোক দলের প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি। বিজেপির তৎকালীন জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগায় ২০২৩ সালে দলে পদ খোয়াতে হয় তাঁকে। তারপর নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করলেও দলের হয়ে কাজ করেছেন অলোক। কিন্তু নয়া জেলা সভাপতিকে সংবর্ধনা জানাতে এসে এদিন দীর্ঘক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বিব্রত বোধ করেন তিনি। শেষমেশ পিছনের দরজা দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে নয়া জেলা সভাপতির কাছে পৌঁছন তিনি। ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে জেলা সভাপতির কাছে ‘সবাইকে নিয়ে চলা’র আর্জি রাখেন।
এদিকে, অলোক কার্যালয়ে ঢোকার আগেই বাইরে বেরিয়ে আসেন বিজেপির সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী। দলীয় অফিস চত্বরে অলোকের সঙ্গে বাপির গায়ে গা ঠেকলেও কথা হয়নি দুই নেতার। বরং ঘুরিয়ে এদিনও একে অপরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তাঁরা। দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রশ্নের উত্তরে অলোক চক্রবর্তী বলেন, নতুন জেলা সভাপতিকে সবাইকে নিয়ে চলতে বলেছি। তিনি কী করবেন সেটা তাঁর বিষয়। তবে তিনি যদি কারও অঙ্গুলিহেলনে চলেন, তাহলে ভরাডুবি হতে বাধ্য। অন্যদিকে, সরাসরি নাম না করলেও অলোক প্রসঙ্গে বাপি গোস্বামীর মন্তব্য, শুধু একটা কথাই বলব, দলে মেইন লাইনে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে।
জলপাইগুড়িতে বিজেপির জেলা সভাপতি নির্বাচনের দিন থেকে মাথাচাড়া দিয়েছে ক্ষোভ বিক্ষোভ। এদিন সংবর্ধনা সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেন বাপি গোস্বামী। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কে কী বলছেন, সেসবে কান দেবেন না আপনারা। এদিনের কর্মসূচিতে বিজেপি সাংসদ ও দলের বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন না। অধিবেশন চলায় তাঁরা থাকতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে দলের তরফে। তবে এদিন কর্মসূচির শুরু থেকেই নিজের হাতে ব্যাটন রাখার চেষ্টা করেন বাপি। নয়া সভাপতি শ্যামল রায়ও অবশ্য এদিন বাপিকে ‘অভিভাবক’ তকমা দেন। বলেন, বাপিদা’র নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত। ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টায় শ্যামল তাঁর বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জলপাইগুড়ি লোকসভার অধীনে আটটি বিধানসভা রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সবক’টিতেই জিততে হবে। আপনারা ঝাঁপিয়ে পড়ুন। তবে দলের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করবেন না।
নিজস্ব চিত্র।