সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: মাদারিহাটের বিডিওকে অফিসে ঢুকে কদর্য ভাষায় শাসালেন বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা। টেবিল চাপড়ে বিডিওর দিকে তেড়ে গেলেন তিনি। তাঁর এই দাদাগিরির ঘটনা গত বৃহস্পতিবার ঘটলেও এতদিন চাপা ছিল। শনিবার সকালে জনপ্রতিনিধির শাসানির ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও ‘বর্তমান’ ওই ভাইরাল ভিডিও’র সত্যতা
যাচাই করেনি।
ভিডিওতে দুর্গতদের জন্য বিডিওর কাছে ত্রিপল চেয়ে না পাওয়াতেই সাংসদকে মেজাজ হারাতে দেখা যাচ্ছে। এরপর বিডিওর দিকে তেড়ে গিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে টেবিল চাপড়াতে থাকেন তিনি। চলে কদর্য শাসানি। আঙুল উঁচিয়ে মনোজবাবু বলতে থাকেন ‘আপনি শাসক দলের কথায় কাজ করছেন। বিডিওর চেয়ারে বসে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না পারলে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে দলের কাজ করুন।’যদিও বিডিওকে এক মুহূর্তের জন্যও মেজাজ হারাতে দেখা যায়নি। তিনি আগাগোড়া শান্তই ছিলেন। কিন্তু এমপি শান্ত হননি। বিডিওর দাবি, এমপি তাঁর ঘরে ঢোকার জন্য আগাম অনুমতি নেওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখাননি।
ভিডিওতে এক সংসদ সদস্যের এহেন কাণ্ডকারখানা ভাইরাল হতেই হতবাক জেলাবাসী। নিন্দার ঝড় উঠেছে সব মহলে। পাল্টা তৃণমূল বিষয়টিকে অস্ত্র করে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, ‘এটা তো সরাসরি গুন্ডামিরই নামান্তর। একজন সরকারি আমলার সঙ্গে জনপ্রতিনিধির কেমন আচরণ করা উচিত, তা জানা নেই স্বয়ং বিজেপি সাংসদেরই। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি’। মনোজবাবুকে এভাবে মেজাজ হারিয়ে বিডিওর উপর চড়াও হতে দেখে অবাক রাজনৈতিক মহল। পাল্টা মনোজ টিগ্গা বলেন, মাদারিহাটের বিডিও তৃণমূলের কথায় চলছেন। দিনের পর দিন তিনি আমার সঙ্গে অসহযোগিতা করে চলেছেন।
জেলার রাজনৈতিক মহল বলছে, অভিযোগ থাকতেই পারে। তাই বলে বিডিওর দিকে তেড়ে গিয়ে কথা বলা উচিত নয়। প্রতিবাদ জানানোর জন্য অন্য রাস্তাও তো আছে। মাদারিহাটের বিডিও অমিত চৌরাশিয়া বলেন, আগাম অনুমতি না নিয়েই এমপি আমার ঘরে চলে এসেছিলেন। তাও তাঁর সঙ্গে কোনওরকম অসহযোগিতা করিনি।