নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: তৃণমূল নেতাকে গুলি কাণ্ডে কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার রায়ের ছেলে দীপঙ্কর রায় ও গাড়ি চালক উত্তম গুপ্তাকে শনিবার পাঁচদিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। ১০ জুলাই কেস ডায়েরি, ইনজুরি রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাদী পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা বলে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা এফআইআরকে ম্যান মেড বলে দাবি করেন। তাঁরা প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ঘটনায় দু’জন অভিযুক্তকে পুলিস গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা অধরা। এফআইআর-এ জাহিদুল হক ওরফে আকাশ, কর্ণ দাস, সুকুমার রায় (গাড়ির মালিক তথা বিধায়ক) ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও অনেকে রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। পুলিস তাঁদের খুঁজছে। এদিন আদালতে তোলার সময় ধৃত বিধায়কের ছেলে দীপঙ্কর রায় জানায়, সবটাই রাজনৈতিক চক্রান্ত। পুলিস তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, ধৃতদের পাঁচদিনের জন্য হেফাজতে পাওয়া গিয়েছে। বাকিরা কেউ ধরা পড়েনি। ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজ চলছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ চকচকা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝিনাইডাঙা এলাকায় কোচবিহার-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজু দে’কে গুলি করা হয়। তাঁর ডান কাঁধে গুলি লাগে। গুরুতর জখম রাজু এখনও কোচবিহারের নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। তদন্তে নেমে পুলিস একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কালো রঙের এসইউভির সন্ধান পায়। ঘটনায় কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক বিজেপির সুকুমার রায়ের ছেলে সহ অন্যদের নামে অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরেই পুলিস বিধায়ক পুত্রকে গ্রেপ্তার করে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে।
ঘটনায় জেলার রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুলি কাণ্ডে খোদ বিজেপি বিধায়কের ছেলে গ্রেপ্তার ও বিধায়কের নিজের ব্যবহৃত গাড়ি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় তৃণমূল এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলেছে।
শুক্রবার কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় প্রতিবাদ আন্দোলনের পাশাপাশি শনিবার এলাকায় লাগাতার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যে বুথে বুথে গণস্বাক্ষর অভিযান রয়েছে। যা সরাসরি বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের বিরুদ্ধে। কোচবিহার উত্তর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুকুমারের নাম এই ঘটনায় জড়িয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে জেলায় বিজেপি চাপে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, সমস্ত বুথে লাগাতার গণস্বাক্ষর অভিযান চলবে। বুথে বুথে পথসভা, মিছিল হবে। আইন আইনের পথে চলবে। তবে, বিজেপি বিধায়কের গ্রেপ্তারের দাবিতেও আন্দোলন শুরু হবে।
সুকুমার বলেন, ছেলেকে মিথ্যা কেসে ফাঁসানো হয়েছে। গাড়ির কোনও প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও পুলিস সেটি নিয়ে গিয়েছে। কালো গাড়ি তো অনেক আছে। ওটা যে আমারই গাড়ি, সেটা কে বলেছে? ধৃতকে আদালতে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস। - নিজস্ব চিত্র।