Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিক্ষুব্ধদের জুতোপেটার নিদান বিজেপি বিধায়কের, ময়নায় বিজেপিতে গৃহযুদ্ধ

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কায় ভুগছে বিজেপি। ময়নার বিধায়ক বিজেপির অশোক দিন্ডা বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চ থেকে কর্মীদের এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

বিক্ষুব্ধদের জুতোপেটার নিদান বিজেপি বিধায়কের, ময়নায় বিজেপিতে গৃহযুদ্ধ
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কায় ভুগছে বিজেপি। ময়নার বিধায়ক বিজেপির অশোক দিন্ডা বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চ থেকে কর্মীদের এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। কেউ সাবোতাজ করলে জুতোপেটা করার নিদান দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ময়না বিধানসভায় নিজেরই দলের প্রতিপক্ষ এক নেতাকে টার্গেট করে অশোকবাবু জুতোপেটার নিদান দিয়েছেন বলে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এনিয়ে দুই গোষ্ঠীর লড়াই চলছে। কেউ বিধায়কের পক্ষে। আবার কেউ কেউ বিধায়ক বিরোধী হিসেবে বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডলের পক্ষে। এই সংঘাতের জেরে কেউ কেউ গ্রুপ থেকে বেরিয়েও যাচ্ছেন। ভোটের আগে ময়নায় বিজেপিতে ‘গৃহযুদ্ধে’র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Advertisement

গত রবিবার নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চিতে বিজেপির জেলা কমিটির বিজয়া সম্মিলনি ছিল। সেখানে সন্ধ্যা নাগাদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্ডার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দলের মধ্যে হইচ‌ই পড়ে গিয়েছে। বিধায়ক বলেন, ‘প্রার্থী যেই হোন না কেন পদ্মফুল দেখে ভোট দেবেন। কোনও নেতৃত্ব দেদার খরচ করেও টিকিট না পেয়ে ভোট না দেওয়ার কথা বললে পায়ের তলা থেকে জুতো খুলে গালে ঠপাঠপ মারবেন।’
এই মুহূর্তে ময়নায় বিজেপি দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে আছেন বিধায়ক অশোক দিন্ডা। তাঁর বিপক্ষ শিবিরে রয়েছেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুগামী চন্দন মণ্ডল ও আশিস মণ্ডল। বিধায়ক নেতৃত্ব বলতে ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডলকে ইঙ্গিত করে ওই মন্তব্য করেছেন বলে তাঁর অনুগামীদের দাবি। ২০২১সালে ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে চন্দনবাবুর নাম একপ্রকার পাকা হয়ে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে স্টারপ্রার্থী হিসেবে অশোকের নামে সিলমোহর দেয় দল। বিধানসভার টিকিট থেকে বঞ্চিত হলে চন্দনবাবু জানপ্রাণ লড়িয়ে খেটেছিলেন। তিনি দলের ময়না ব্লক কমিটির কনভেনর ছিলেন। সম্প্রতি বিধায়কের সঙ্গে সংঘাতের জেরে তাঁকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের জেলা সম্পাদক পদও হারাতে হয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি জেলা কমিটির সদস্য। চন্দনবাবুর স্ত্রী গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে ততই ময়নায় দলের দুই শিবিরের সংঘাত চড়ছে। আবার বিধানসভা ভোটের আগে চন্দনবাবু একের পর এক কর্মসূচি নিচ্ছেন। একগুচ্ছ পুজো কমিটিকে অনুদান, সামাজিক কর্মসূচি, বিজয়া সম্মিলনি, মন কি বাত সহ টানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, নানান কর্মসূচি নিয়ে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে চন্দনবাবু এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। ফিশারি, কেবল, মাছের খাবারের ব্যবসা আছে তাঁর। ফলে কর্মসূচি সফল করার জন্য দেদার খরচ করছেন। আর তাতেই বিধায়ক শিবির চিন্তায় পড়ে গিয়েছে বলে চন্দনবাবুর অনুগামীদের দাবি। চন্দন মণ্ডল বলেন, গত ৫অক্টোবর ময়নার নৈছনপুর-১ পঞ্চায়েতেও বিজয়া সম্মিলনিতে বিধায়ক আমাকে নিয়ে ৭০শতাংশ সময় ব্যয় করেছেন। বিধানসভা ভোটে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে তিনি যা খুশি বলছেন। ১২তারিখ নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চির সভায় জুতোপেটার কথা বলছেন। একজন বিধায়কের মুখে এমন বক্তব্য বেমানান। আমি দলের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করি। সেটা অনেক আগে থেকেই করে আসছি। তাছাড়া, আমি দলকে ভোট না দেওয়ার কথা বলব কেন? বিধায়কের এহেন বক্তব্য প্রসঙ্গে জেলা সভাপতির কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ