Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুল পরিদর্শকের অফিসে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক

কর্মীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করার অভিযোগও ওঠে পদ্ম বিধায়কের বিরুদ্ধে

স্কুল পরিদর্শকের অফিসে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) অফিসে কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, সরকারি অফিসে গিয়ে তিনি ‘দাদাগিরি’ করেন। কর্মীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করার অভিযোগও ওঠে পদ্ম বিধায়কের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ মানতে চাননি বিজেপি বিধায়ক। পাল্টা তিনি ওই অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছেন। ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে সত্যনারায়ণবাবু দাবি করেছেন। তৃণমূলের শিক্ষা সেলের নেতারা আবার ডিআই অফিসের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে পাল্টা বিজেপি বিধায়ককে বিঁধেছেন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সত্যনারায়ণবাবু পেশায় একজন শিক্ষক। শালতোড়ার রামপুর বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠে তিনি শিক্ষকতা করেন। পিএফ লোন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শুক্রবার বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে তিনি যান। ওইসময় বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তাতেই বিধায়ক তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। অফিসের কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিধায়ক মন্তব্য করতে শুরু করেন। অফিসের অব্যবস্থা নিয়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। কর্মীদের উপর কার্যত চোটপাট শুরু করে দেন। এমনকী পরিদর্শকদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করলে অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কর্মীরা বাইরে মুখ খুলতে চাননি। পরে শাসক দলের শিক্ষা সেল ময়দানে নামতেই কর্মীরা পদ্ম বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হন। এক কর্মী বলেন, ডিআই কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই বিধায়ককে বসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, উনি বসেননি। আমাদের কথা কানে তোলেননি। উল্টে আমাদের ধমক দিতে শুরু করেন। আমরা অন্যান্য দিনের মতো কাজের ছন্দে ছিলাম। হঠাৎ করে বিধায়কের ধমকচমকে ছন্দপতন হয়। একজন জনপ্রতিনিধি যে এরকম আচরণ করতে পারেন, তা ভাবা যায় না। বাকবিতণ্ডা চলাকালীন বিধায়ক অফিসের কর্মী-আধিকারিকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা অবশ্য গোটা ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 
ধমক দেওয়া  কিংবা খারাপ আচরণ ও বিরূপ মন্তব্যের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণবাবু। তিনি বলেন, মেয়ের বিয়ের জন্য অফেরত যোগ্য পিএফ লোনের আবেদন করেছিলাম। সেই ব্যাপারে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। উনি ব্যস্ত ছিলেন। অপেক্ষা করতে বলে কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ আমাকে বাইরে বসিয়ে রাখেন। যে জায়গায় আমাকে বসানো হয়েছিল, সেখানে ফ্যান পর্যন্ত চলেনি। গরমে চরম ভোগান্তি হয়। আমি ডিআই অফিসের অব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম। কাউকে ধমক দিইনি। আসলে তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। ওরা অযথা জলঘোলা করছে। 
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি গোরাচাঁদ কান্ত বলেন, ডিআই অফিসের কর্মীদের সঙ্গে বিধায়ক খারাপ ব্যবহার করেছেন। সরকারি কাজে বাধাদানও করেছেন। এমনকী ডিআই, এআইদের সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সরকারি অফিসে গিয়ে ওই ধরনের কাণ্ড ঘটানোয় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রয়োজনে কর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ