সংবাদদাতা, ঘাটাল: নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, বিজেপি নেতাদের ‘নিজ মূর্তি’ ততই প্রকাশ পাচ্ছে। রাজনৈতিক মহল মনে করেছ, হাতের সামনে কোনও ‘ইস্যু’ না পেয়ে বিজেপি নেতাদের মনে যা আসছে তাই বলতে শুরু করেছেন। কয়েক দিন আগে ঘাটালের বিজেপির বিধায়ক শীতল কপাট আগে ওসির হাত-পা ভেঙে ল্যাংড়া করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
রবিবার রাতে সেই শীতলবাবু শাসকদলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের গাছে বেঁধে রাখার পরামর্শ দিলেন। ওই রাতে ঘাটাল ব্লকের মনোহরপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার প্রচার ছিল। সেখানেই শীতলবাবু তৃণমূলের ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপ মাজি এবং ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা বিকাশ করের নাম উল্লেখ করে তাঁদের গাছে বেঁধে রাখার নিদান দিলেন। গুটি কয়েক সমর্থককে নিয়ে ওই সভায় শীতলবাবু বলেন, এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য মোদি সরকার বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। মোদির উদ্দেশ্য ছিল সোনার বাংলা গড়ে তোলা। সেই টাকা তৃণমূলের নেতারা আত্মসাৎ করে নিয়ে নিজেদের গাড়ি বাড়ি করেছেন। শীতলবাবু বলেন, দিলীপবাবু এবং বিকাশবাবুরা দুনীর্তিগ্রস্ত। জনগণের টাকা লুঠপাট করেছেন। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশ্য বিজেপি বিধায়কের পরামর্শ, ওরা যখন তৃণমূলের মিছিল, মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আসবেন তখন আপনারা হাতে ঝাঁটা-জুতো নিয়ে এগিয়ে যাবেন। প্রশ্ন করবেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো উন্নয়নের টাকা কোথায়? ওরা উত্তর দিতে পারবে না। তখন ওদের গাছে বেঁধে রেখে আমাদের ডাক পাঠাবেন, আমরা হিসেব চাইব।
বিজেপির এই উস্কানিমূলক বক্তব্য ভালো চোখে নেননি সাধারণ মানুষ। ওই এলাকায় ‘আপাত নিরপেক্ষ’ মানুষরা শীতলবাবুর বক্তব্য শুনে বলেন, এই ভাবে আক্রমণ করে, দোষারোপ এবং অন্য দলের নেতাদের অপবাদ দিয়ে মানুষকে কাছে পাওয়া যায় না। মানুষের সামনে উন্নয়নের পরিসংখ্যান তাদের আর নতুন করে কিছু বলতে হবে না।
এনিয়ে দিলীপবাবু বলেন, বিজেপির সংস্কৃতিটাই ওই রকম। ওদের পায়ের তলায় মাটি যত সরে যাচ্ছে ততই ওরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। শীতলবাবুর বক্তব্যেই তা পরিষ্কার। বিজেপির ক্ষমতা থাকলে আমাদের এক পয়সার দুর্নীতির প্রমাণ দিক। বিকাশবাবু বলেন, বিজেপি বিধায়কের ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না। এই ব্লক তথা বাংলার মানুষ খুব ভালো করে জানেন, কাদের হাত ধরে আমাদের বাংলায় উন্নতি হচ্ছে।