নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: একে অসহ্য গরম, তার উপর পানীয় জলের আকাল। অকেজো কল সংস্কারের কথা প্রধানকে জানানো হলেও সুরাহা হচ্ছে না। এছাড়াও উন্নয়নমূলক কাজেও অসহযোগিতার অভিযোগ। ঘটনায় দলেরই প্রধানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য পদ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এনিয়ে সম্প্রতি তাঁর স্বামী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। কড়িধ্যা পঞ্চায়েতের পূর্ব কালীপুর ১০ নম্বর সংসদের বিজেপি সদস্য চায়না দাসের পদ ছাড়ারপোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে। প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যের বিরোধ মেটাতে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব তৎপর হয়েছে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, রাজ্যে বিরোধী দল পরিচালিত পঞ্চায়েত বা পুরসভা থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৎ সন্তানের মতো ব্যবহার করেন। ঠিকঠাক সবকিছু পাওয়া যায় না। তিনি হয়তো কিছু বুঝে থাকতে পারেন। তবে, স্থানীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিষয়টি মিটমাট করার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, আমাদের সরকার বিমাতৃসুলভ আচরণ করে না। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান দ্বায়িত্ব পালন করছেন না। সাধারণমানুষ সহ তাঁদের দলের লোকেদের একই কথা। ইতিমধ্যে তিনজন পঞ্চায়েত সদস্য আমাদের দলে যোগদান করেছেন। অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন। কিছুদিন বাদে প্রধান একাই থাকবেন।
বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের ফলাফলের নিরিখে কড়িধ্যা পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে। যদিও লোকসভা ভোটের পরপর উপপ্রধান সহ দুই পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। স্বাভাবিকভাবেই কড়িধ্যা পঞ্চায়েতে বিজেপি বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে, প্রধান দলবদল না করায় পঞ্চায়েতের রাশ বিজেপির হাতেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়িধ্যা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগও তুলে ধরা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। এই আবহে দলীয় পঞ্চায়েত সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে সরব হতেই পদ্ম শিবির বিপাকে পড়েছে। অভিযোগ, এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা চরমে। সেই সমস্যা সমাধানে এলাকায় থাকা একাধিক জলের কল(হ্যান্ড পাম্প) খারাপ হয়ে জলের সংকট দেখা দিলেও প্রধানের সহযোগিতা মিলছে না। সেইসঙ্গে সামগ্রিক উন্নয়নের কাজেও অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত সদস্য পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই মোতাবেক তাঁর স্বামী সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য স্ত্রী›র পদ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে জনমত জানতে চান।
ঘটনা প্রসঙ্গে চায়না দাস বলেন, এনিয়ে এখন কিছু বলব না। দলের তরফে ডাকা হয়েছে। বৈঠক হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেব। তবে, এদিনও তিনি প্রধানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান বেলা দত্ত বলেন, মনমালিন্য হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আর জলের যে সমস্যার কথা বলেছিলেন তা মিটে গিয়েছে।